বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুই স্থান থেকে বিশাল আকৃতির দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশন এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশন এলাকা থেকে সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে সকালে চা-শ্রমিকরা কাজ করার সময় হঠাৎ একটি বিশাল আকৃতির অজগর দেখতে পান। সাপটি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে বিষয়টি বাগানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেলিম মিয়াকে জানানো হলে তিনি বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বন বিভাগের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অজগরটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্ষত অবস্থায় অজগরটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি।”
অন্যদিকে, একই দিন সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা বাগান থেকে প্রায় ১৭ ফুট লম্বা আরেকটি অজগর উদ্ধার করেন সাপ-সংরক্ষক ও ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের (সিসিএ) সংরক্ষণকর্মীরা।
সিসিএ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়ি চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে চা-পাতা সংগ্রহের সময় শ্রমিকদের নজরে আসে বিশাল আকৃতির অজগরটি। পরে বাগান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়।
সাপ-সংরক্ষক ও ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সংরক্ষণকর্মী চঞ্চল গোয়ালা বলেন, “সকালে ফুলবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ১৭ নম্বর সেকশনে একটি বড় অজগর দেখতে পেয়ে তারা বাগানের ব্যবস্থাপককে জানান। পরে ব্যবস্থাপক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সাপটি উদ্ধার করি। উদ্ধার শেষে অজগরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
ফুলবাড়ি চা বাগানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান আশিক মিয়া বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অজগরটি দেখতে পাওয়ার পর আমরা সেটির কোনো ক্ষতি না করে দ্রুত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, “প্রায় ১৭ ফুট দীর্ঘ অজগরটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ থাকায় এটিকে রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হলে এটিকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অজগর বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অন্যতম। এটি সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। তবে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, আবাসস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

