আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ২ নম্বর ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং সাবেক বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জাফর ইকবালকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। সম্প্রীতির রাজনীতির মাধ্যমে তিনি তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
স্থানীয়দের মতে, দিন যতই যাচ্ছে ততই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও আপদ-বিপদের সংবাদ পেলেই তিনি খোঁজখবর নিতে ছুটে যান। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়—সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কারণে তিনি অল্প সময়েই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও হামলার শিকার হলেও মাঠ না ছাড়ায় তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তার সঙ্গে সহজেই কথা বলা যায় এবং দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেন।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে মোহনপুর উপজেলা ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন এই তরুণ নেতা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হলেও কখনো দমে যাননি। বর্তমানে দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়ে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজারে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ নিয়মিত অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে জাফর ইকবাল সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুর আলম টিপু বলেন, “জাফর ইকবাল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। দল সবদিক বিবেচনা করলে তিনিই যোগ্য প্রার্থী। বিগত সরকারের আমলে তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অভিযোগ নেই; বরং মানবিকতা ও উদারতার জন্য তিনি পরিচিত। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিজয় সুনিশ্চিত হবে।”
বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী জাফর ইকবাল বলেন, “বিগত সরকারের তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে সেই সরকারের পতন হয়েছে। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা করছি। আশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। তবে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি তার পক্ষেই কাজ করব। কারণ, আমি কখনো দলের আদর্শের বাইরে যাব না। এটাই বিএনপির আদর্শ।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

