সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে সড়কে জমে থাকে পানি। কার্পেটিং ও পাথর উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। যার ফলে যানবাহন চলছে হেলেদুলে। আবার সড়কের কোনো কোনো অংশ রয়েছে কাদা-পানির দখলে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের একেকটি গর্ত যেন পরিণত হয়েছে ছোটখাটো ডোবায়। একটি জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ বা গ্রাম্য ধাঁধা হলো "পুরো শরীর ক্ষত, মলম দিবো কত" এটি এখন রামগঞ্জ উপজেলার অন্যতম যোগাযোগপথ প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক সাথে মিল পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন বেহাল দশা রামগঞ্জ উপজেলার অন্যতম যোগাযোগপথ প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস ব্রিজ থেকে শিশু পার্ক সড়কটির। মাত্র এক কিলোমিটার অংশে শত শত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বেহাল এই সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে এই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া ও টানা বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতিতে হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। অথচ এই সড়ক দিয়েই রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষকে হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল কলেজে যেতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে প্রতিদিনই এই সড়কে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা আরো জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় এবং বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ চালু হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারণে সংস্কার কাজটি বর্তমানে লেজেগোবরে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
.jpg)
আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট বড় ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকরা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি পেড়েছে চরম আকারে।
সড়কটির পাশে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ, রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬-৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া এ সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
রামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র বাহার হোসেন বাবু জানায়, স্কুলজীবন থেকে এই সড়কের বেহাল দশা দেখে আসছি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
রামগঞ্জ বাজারের ফল ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন জানান, এটি রামগঞ্জের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও ক্রেতারা আসতেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে ক্রেতারা এখন বাজারে আসতে চান না, যার ফলে এ উপজেলার বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর বলেন, রাস্তা খারাপের কারণে এই সড়কে গাড়ি চালাতে আমাদের ভীষণ কষ্ট হয়। প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। যা ইনকাম করি তা গাড়ির পেছনেই চলে যায়। গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটির কারণে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দিচ্ছি কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য। এ সড়ক সংস্কারে ধীরগতি হওয়ার কারণে সাধারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের নিয়ে কটু কথা বলছে।
ওই সড়কের তদারকি কর্মকর্তা ও সড়ক ও জনপথের এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্ক) মো. সাবের হোসেন জানান, ৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সংস্কার কাজ আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ততম হওয়ায় আমাদের অনেক চাপও সহ্য করতে হচ্ছে।
রামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ঠিকাদার সংকটের কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। সড়কের একটি অংশ ৯১২ মিটার (বাজার অংশের প্রায় এক কিলোমিটার) কাজ দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ত হওয়ার কারণে কাজ করতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির জন্য কাজের গতি স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে আশা করছি আগামী ১২/১৫ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, জনগণের কষ্ট আমরা বুঝি। সংস্কার কাজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

