AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

খাল পুনঃখনন শেষে ৪২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও



খাল পুনঃখনন শেষে ৪২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ।

উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে অব্যয়িত ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার  (২৩ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ সরকারি ট্রেজারিতে অর্থ জমা দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুছি নদীতীরবর্তী খাওলিয়া ও বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দুটি খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬০ টাকা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ও পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় নির্বাহ করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।

প্রকল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিবিড়ভাবে তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে কাজের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখেই এই অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই তীরে প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। স্থানীয়দের মতে, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষিকাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ বলেন, "শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইউএনও মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজের গুণগত মান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সঠিক তদারকির ফলেই কোনো ধরনের অপচয় ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, "মোরেলগঞ্জ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপকূলীয় উপজেলা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পের আওতায় পানগুছি নদীতীরবর্তী দুটি ইউনিয়নে পৃথক দুটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।"

সরকারি প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি প্রকল্পের অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করার প্রবণতা দেখা যায়, সেখানে প্রয়োজনীয় কাজের গুণগত মান বজায় রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, ইউএনও হাবিবুল্লাহর নেতৃত্বে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহিতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা, সুশাসন ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!