জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী হাফিজুল হক (৩৯)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মায়া কলমী গ্রামের আমেনা বেগম দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় সবজির ব্যবসা করতেন। ঢাকার মিরপুর এলাকায় একটি কলার আড়তের পাশের ভাড়া বাসায় তারা বসবাস করতেন। ওই কলার আড়তে কাজ করার সুবাদে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর গ্রামের মৃত প্রধান মিয়ার ছেলে হাফিজুল হকের সঙ্গে আমেনা বেগমের দ্বিতীয় মেয়ে হুনুফা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ২০১২ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে উভয় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মেনে নেন।
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী হুনুফা আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাঁকে নির্যাতন করতে থাকেন হাফিজুল হক। যৌতুকের দাবিতে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়িতে স্ত্রী হুনুফা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনার পর ১৯ সেপ্টেম্বর নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর আসামির উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে হাফিজুল হককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদানের জন্য তাঁকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. মোজাম্মেল হক।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

