লালমনিরহাটে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে পাঁচটি চোরাই ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আন্তঃজেলা অটোচোর চক্রের সদস্য সুভাষ চন্দ্র রায় (৪৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের আরেক সদস্য ও চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচার মূলহোতা সুকুমার রায় পালিয়ে যান।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ও সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিডিআর গেট ও কুলাঘাট বাজার এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এসব চোরাই ইজিবাইক ও যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার সুভাষ চন্দ্র রায় লালমনিরহাট শহরের রায়পাড়া এলাকার নির্মল চন্দ্রের ছেলে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তঃজেলা চোরচক্র লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল জানতে পারে, সুভাষ চন্দ্র রায় একটি চোরাই ইজিবাইক বিক্রির উদ্দেশ্যে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ শাহজাহান কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি তিন চাকার নীল রঙের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এবং চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুভাষ স্বীকার করেন, তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট বাজারে অবস্থিত সুকুমার রায়ের ‘শুভ অটো সেন্টার’-এ বিক্রি করতেন। সুকুমার রায় চোরাই ইজিবাইক কিনে সেগুলোর রং ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ কুলাঘাট বাজারে সুকুমার রায়ের দোকানে অভিযান চালায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে দোকানে তল্লাশি চালিয়ে চোরাই সন্দেহে বিভিন্ন কোম্পানির আরও চারটি পুরোনো ইজিবাইক এবং বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রওশন কবীর বলেন, “চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে রং ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। আমরা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি এবং পাঁচটি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করেছি। পলাতক আসামিসহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

