বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন সদস্যকে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তিতে সহায়তার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। একই সঙ্গে তাঁদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন এবং সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, আবুল মতিন ও জাকের হোসেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমানের সই করা ১২ জুলাইয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ এবং ‘রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করে ভোটার তালিকাভুক্তিতে সহায়তা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, তদন্তে অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। তবে প্রায় এক বছর বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় ফাইলটি স্থগিত ছিল। পরে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বলেন, “এটি সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত নয়। অভিযুক্তদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

