লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকায় ২০১১ সালের আলোচিত ওয়াজেদ আলী প্রধান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি মো. মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মামুনুর রশীদ ওরফে সুমন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. শাহিন ওরফে পিচ্ছি শাহিন, মো. ফরিদুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু, মো. নূর আলম, মো. লিটন মিয়া, মো. রবিউল ইসলাম ও মো. হাফিজুল ইসলাম। রায় ঘোষণার পর তাদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে পাটগ্রাম উপজেলার উত্তরমারী (বুড়িমারী) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২৫ আগস্ট নিহতের বাবা মফিজাল হোসেন প্রধান (৬২) বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্বাসনালি এবং ডান পাশের প্রধান রক্তবাহী ধমনি কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিহত ওয়াজেদ আলী প্রধানের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি মো. মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

