AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

লৌহজংয়ে তীররক্ষা বাঁধে ধস, পদ্মার ভাঙন ঠেকানো নিয়েই প্রশ্ন


Ekushey Sangbad
আবু নাসের লিমন, মুন্সিগঞ্জ
০৩:১৭ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৬

লৌহজংয়ে তীররক্ষা বাঁধে ধস, পদ্মার ভাঙন ঠেকানো নিয়েই প্রশ্ন

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতি ও নদ নদীর পানি বৃদ্ধি  হওয়ায় নদীতে প্রবল স্রোতের কারনে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে পদ্মা পাড়ের মানুষের। পদ্মার প্রবল স্রোতের কারনে নবনির্মিত তীররক্ষা বাঁধে বেশ কিছু জায়গা জুড়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধস।

লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া মাত্র দেড় মাস আগে নির্মিত নদী তীর রক্ষা স্থায়ী বাঁধে আকস্মিক ধস নেমেছে। সিসি ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকায় তীব্র ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপারের শত শত পরিবার। দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমাধানের আশা জাগিয়েও বাঁধের এমন ভঙ্গুর দশা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের ভাঙন আতঙ্ক কাটাতে পদ্মার তীরে নির্মাণ করা হয়েছিল স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ। বাঁধ নির্মাণের পর স্বপ্ন দেখেছিলেন নদীপাড়ের মানুষ এবার হয়তো আর হারাতে হবে না বসতভিটা, রক্ষা পাবে শেষ সম্বল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে শুরু করেছে মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই। 

৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের মান নিয়েও এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২০২১ সালে শুরু হয়ে ২০২৫ সালে কাজের মেয়াদকাল শেষ হলেও পূণরায় এর মেয়াদকাল বাড়ানো হয়েছে।

গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক একের পর এক সরে গিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলো রাত কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। অনেকেই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা আক্ষেপ নিয়ে জানান, যে বাঁধকে ‘স্থায়ী সমাধান’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, সেটি নির্মাণের এত অল্প সময়ের মধ্যেই কেন এমন দুর্বল হয়ে পড়লো তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রবিবার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে নদী তীর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ ধস দেখা দেয়। প্রথমে কয়েকটি সিসি ব্লক সরে গেলেও পরে দ্রুত বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।  কোনো ধরনের বড় শব্দ বা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বাঁধের ব্লকগুলো পদ্মার স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো ভয়ে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে থাকেন।

দেড় মাসেই ভাঙল ‘স্থায়ী’ বাঁধ, পদ্মাপাড়ে ফের আতঙ্কস্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর বলেন, বিকেলে হঠাৎ দেখি বাঁধের ব্লক ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। রাতে আমরা আতঙ্কে ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছি। এখন বুঝতে পারছি না, কোথায় থাকব।

পদ্মার ভাঙনে লৌহজংয়ের এই অঞ্চলের মানুষ বহুবার সর্বস্ব হারিয়েছেন। নদীর আগ্রাসনে বসতভিটা হারিয়ে নতুন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া অনেক পরিবারের কাছে এই বাঁধ ছিল নিরাপত্তার শেষ ভরসা।

বাঁধের পাশে বসবাসকারী ভুক্তভোগীরা জানান, আমরা ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে সব হারিয়েছি। বাঁধ হওয়ার পর মনে হয়েছিল এবার শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারব। কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই যদি বাঁধের এই অবস্থা হয়, তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? 

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, বাঁধ দেখে মনে হয়েছিল আমাদের ভয় কেটে গেছে। এখন আবার মনে হচ্ছে সব হারানোর সময় এসেছে। অনেক আগেই জায়গা-জমি নদীতে সব চলে গেছে। এখানে এসে ভেবেছিলাম অন্তত মাথা গোজার জায়গাটা থাকবে। এখন সেই জায়গাটাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

স্থায়ী বাঁধে এত দ্রুত ধস নামায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের দুর্বলতা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যদি বাঁধের এই অবস্থা হয়, তাহলে সামনে নদীর পানি ও স্রোত আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে ব্লক বসালেই হবে না; বাঁধের নকশা, নির্মাণ কাজের মান এবং ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান ও অন্যান্য বিষয়গুলোও যাচাই করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত এর কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা রয়েছে।

এদিকে ভাঙ্গন পরিস্থিতি দেখতে গতকাল সোমবার  (১৩ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি বলেন, সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা উপস্থিত হয়ে ফাটল স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, এখন ভয়ের কোনো কারণ নেই। খবর পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি অক্টোবর ২০২১ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ মেয়াদকাল থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদকাল বাড়ানো হয়েছে। ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজের অনেকটা ধীরগতিতে চলছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!