তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভোল্টেজ ওঠানামার (ভেলকিবাজি) কারণে নেত্রকোনা মদন উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত।
সরেজমিনে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই লুকোচুরিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ।
বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তিরত রোগীদের অবস্থা একেবারেই নাজেহাল। গত কয়েক মাস যাবৎ এভাবেই চলছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
মদন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, মদন-খালিয়াজুরীতে প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহকের জন্য ৬টি ফিডার চালাতে ১৩-১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু মদন জোনাল অফিস বিদ্যুৎ পায় মাত্র ৪-৫ মেগাওয়াট।
গত দু`তিন দিন যাবৎ মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে মদন জোনাল অফিস। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ৬টি ফিডার চালানো সম্ভব নয়, মাত্র ২-৩টি ফিডার চালানো যায়। বাকী ফিডারগুলো বন্ধ রাখতে হয়। মূলতঃ এ কারণেই ঘনঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে।
অতীতের কর্মীদের কর্ম বিরতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না পারায়, ত্রুটিপূর্ণ লাইন সংস্কার কাজে ধীরগতি হচ্ছে।
মদন হাসপাতালে ভর্তিরত আবুল হোসেনসহ কয়েকজন রোগী জানায়, দু`তিন দিন যাবৎ আমরা মদন হাসপাতালে ভর্তি আছি। প্রচন্ড গরমে রোগীদের অবস্থা নাজেহাল। আধা ঘন্টা কারেন্ট থাকলে, বাকী এক/দেড় ঘন্টা কারেন্ট থাকে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় কারেন্ট থাকেই না। এ অবস্থায় হাসপাতালে জেনারেটর চালু থাকলে ভালো হয়।
ছাত্র অভিভাবক ঝুমুর আক্তার জানান, সন্ধ্যায় কারেন্ট থাকে না। প্রচন্ড গরমে বাচ্চারা পড়তে বসতে চায় না। এতে লেখাপড়ার ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কম্পিউটার ব্যবসায়ী হাবিবুল্লাহ জানান, কারেন্ট না থাকলে কম্পিউটারে কাজ করা যায় না। মানুষ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দলিল লেখক আব্দুস সালাম জানান, মদন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চলাকালে বারংবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এ কারণে দলিল প্রিন্ট করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এতে করে জনসাধারণ ভীষণ ভোগান্তির শিকার হয়।
মদন জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি যার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

