ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার অভিযোগ।
সেবাগ্রহীতারা জানান, নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে বজলুর রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তিনি আবার একই কর্মস্থলে ফিরে আসেন। এরপর থেকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে ঘুষ দেওয়া যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
জানা যায়, কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে মোট সাতটি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে কাচিয়া ইউনিয়নের চারটি এবং টবগী ইউনিয়নের তিনটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকার ভূমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেতে ১০ হাজার টাকারও বেশি এবং জমাখারিজ (নামজারি) বা নতুন খতিয়ান খুলতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ প্রদান না করলে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং নানা অজুহাতে কাজ বিলম্বিত করা হয়।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে খাজনা বাবদ যে পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়, সরকারি রশিদে তার চেয়ে অনেক কম টাকা উল্লেখ করা হয়। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, টবগী ইউনিয়নের দালালপুর মৌজার বিএস ১৯৪৫ নম্বর খতিয়ানে ষোল আনা অংশের রেকর্ডভুক্ত মালিক মিলন মিয়া চৌধুরী। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই খতিয়ানের অনলাইন ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা বা খাজনা রশিদ নাজিমউদ্দীন চৌধুরীর নামে ইস্যু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দাখিলায় ভূমির শ্রেণি হিসেবে চারটি দাগে নাল ৫৯ শতাংশ এবং একটি দাগে বাড়ি ৫ শতাংশ, মোট ৬৪ শতাংশ ভূমির বিপরীতে মাত্র ১০/- টাকা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ দেখানো হয়েছে।
ভূমি সংশ্লিষ্টদের দাবি, রেকর্ডভুক্ত মালিক ব্যতীত অন্য ব্যক্তির নামে ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা প্রদান আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী এবং এ ধরনের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এখতিয়ারের বাইরে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। তবে দাখিলাটি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, খতিয়ানের রেকর্ডভুক্ত মালিক ছাড়া অন্য কারও নামে ভূমি উন্নয়ন কর বা দাখিলা দেওয়ার সুযোগ নেই।
এটা উনি করার কোন অধিকারই নাই, কোনভাবেই করা উচিত নয়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনব এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

