ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটির আক্রমণে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের পূর্ব দাপুনিয়া এলাকায় নিজ বাসার সামনে হাঁটার সময় মো. মামুন করিম নামে এক ব্যক্তিকে কুকুরটি পায়ে কামড়ে গুরুতর জখম করে। এতে তার পায়ের কিছু অংশের মাংস ছিঁড়ে যায়। পরে তিনি গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে একই কুকুরের কামড়ে আহত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে চিকিৎসা নিতে দেখেন।
এদিকে, সকালে পৌর শহরের পাটবাজার মোড়ে দোকান খুলতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল থেকে কুকুরটি পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এলাকা, বন বিভাগ, আর.কে. হাই স্কুল সড়ক, নয়াপাড়া, খেলার মাঠ, কলাবাগান ও নিমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে একের পর এক মানুষকে কামড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গৌরীপুর পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে ক্ষতস্থান সঙ্গে সঙ্গে প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

