টানা ভারী বর্ষণে যশোরে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টায় রেকর্ড ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় শহর ও জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় আরও ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তায় পানি জমে গেছে। টিবি ক্লিনিক এলাকা, খড়কি শাহ আবদুল করিম সড়ক, ধর্মতলা রোড, আপন মোড়, চারখাম্বার মোড়, মুজিব সড়কের রেলগেট এলাকা, নাজির শংকরপুর, খড়কি রূপকথা মোড়, বেজপাড়া চিরুনিকল মোড়, মিশনপাড়া, আরবপুর, বিমানবন্দর সড়ক, শংকরপুর চোপদারপাড়া ও স্টেডিয়ামপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। পুকুর, মাঠ ও পতিত জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।
টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “এটা যেন আমাদের নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল রহমান বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার নির্মিত ড্রেনগুলো কার্যকরভাবে পরিকল্পনা করা হয়নি। ড্রেনগুলো সঠিকভাবে নির্মাণ করা হলে পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত এবং মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ শহরের বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলায় অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও পলি জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আবার কোথাও আবর্জনায় ড্রেন পুরোপুরি আটকে রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকছে এবং কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, “পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই পানি নেমে যাবে। এছাড়া মেডিকেল কলেজের পাশের একটি সরু ড্রেন সম্প্রসারণ করা গেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তবে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে সেটি করা যায়নি।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

