AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

শিক্ষিকার স্বর্ণ-টাকা ছিনতাই, রিমান্ডে ২



শিক্ষিকার স্বর্ণ-টাকা ছিনতাই, রিমান্ডে ২

অজ্ঞান পার্টির ৬ সদস্য সেইদিন অংশ নিয়েছিলেন কোটচাঁদপুরের স্কুল শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালোংকার নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার মিশনে। তাদের ১ জন ছিলেন ডাবওয়ালা সেজে অন্য ৫ জন ছিলেন যাত্রী বেশে।

রিমান্ডে পুলিশের কাছে এমন তথ্যই দিয়েছেন আসামি শহিদুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন। এদিকে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাকি আসামিদের ধরতে ও খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোটচাঁদপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) অমিত কুমার সাহা।

জানা যায়, গেল ২৯ মে যশোর শিক্ষক প্রশিক্ষন কলেজে বিএড পরিক্ষা শেষে যশোর চুয়াডাঙ্গা রুটের শাপলা পরিবহনের বাসে ওঠেন শিক্ষিকা মুক্তা রানী ভৌমিক। সেই সময় থেকে তাঁর পিছু নেন অজ্ঞান পার্টির ওই ৬ সদস্য। এরপর বাসটি কালিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আসলে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন তিনি। এ সময় মুক্তা রানী পাশের সিটের এক যাত্রীর ডাব খেতে দেখে তিনিও সরল মনে একটি ডাব কিনে খেয়েছিলেন।

সে সময়  তিনি বুঝতে পারেননি পাশের সিটের যাত্রীরা সবাই ছিলেন অজ্ঞান পার্টির সদস্য। এর কিছুক্ষন পর মুক্তা রানী তাঁর স্বামীকে ডাব খেয়ে খারাপ লাগার বিষয়টি মোবাইলে জানান। এরপর মুক্তা রাণী বাসের সিটে ঘুমিয়ে পড়লে,অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা হাতিয়ে নেন তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালোংকার। সব মিলিয়ে ৫/৬ লাখ টাকার মালামাল খোয়া যায় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারটির।

পরের দিন মুক্ত রানীর স্বামী প্রনব ভৌগোলিক বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কোটচাঁদপুর থানার উপপরিদর্শক এস আই অমিত কুমার সাহা। তিনি ওই মামলার সুত্র ধরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মালামাল উদ্ধারের জন্য আদালতে আসামীদের ৫ দিনের রিমান্ড চান। তবে আদালত ওই দুই জনের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে এসে আসামি শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও রুবেল হোসেন (৩৬) দেন ওই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা ৬ জন ছিলাম ওই গ্রুপে। আমাদের মধ্যে একজন ছিলেন ডাবওয়ালা ছদ্মবেশ ধারন করে। বাকি ৫ জন ছিলাম যাত্রী বেশে। আমরা কালিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের দাড়ানো বাসে উঠে ডাবের অফার করতে থাকি অনেককে।

তাদের মধ্যে শিক্ষিকা মুক্তা রানী আমাদের সেই ডাব খান। যাতে আমরা আগে থেকেই ৫/৭ টি অতি মাত্রার ঘুমের বড়ি দিয়ে রেখেছিলাম । এরমধ্যে  আমাদের সেই ডাবওয়ালা ডাব খেতে দিয়ে টাকা নিয়ে বাস থেকে নেমে যান। এরপর আমরা শিক্ষিকার অচেতনের অপেক্ষায় থাকি। কিছুক্ষন পর তিনি সিটে ঘুমিয়ে গেলে তাঁর কাছে থাকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালোংকার নিয়ে আমাদের অন্য ৩  সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যারা এলাঙ্গী নামক স্থানে বাস থামানোর পর পালিয়ে যান। আর আমরা দুই জন ধরা পড়ি জনতার হাতে।

আটকদের একজন হলেন শহিদুল ইসলাম। তিনি খুলনা দৌলতপুরের পাবলা গ্রামের হামিদ শেখের ছেলে। অন্যজন হলেন রুবেল হোসেন (৩৬)। তিনি পিরোজপুর কাউখালি জয়কুল গ্রামের আবুল শেখের ছেলে। মুক্তা রানী ভোমিক কোটচাঁদপুরে বলুহর গ্রামের প্রনব ভৌমিকের স্ত্রী।  তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনীর আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা।

কোটচাঁদপুর থানার এস আই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার সাহা বলেন, মামলাটির দায়িত্ব পাবার পর আমি আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মালামাল উদ্ধারের স্বার্থে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত তাদের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে  বৃহস্পতিবার ওই দুই জনকে আবারও আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রিমান্ড তেমন কোন তর্থ্য পেলেন কি, জানতে চাইলে তিনি বলেন,অজ্ঞান পার্টির ৬ সদস্য মিলে তারা এই মিশনে নেমেছিলেন। এদের মধ্যে একজন ডাবওয়ালা সেজে ছিলেন।  বাকিরা ছিলেন যাত্রী বেশে। ওই শিক্ষককে প্রথমে তারা ডাব খাইয়ে অচেতন করেন। যাতে তারা মিশিয়ে ছিলেন অতি মাত্রার ঘুমের ট্যাবলেট। ডাব খেয়ে শিক্ষক অচেতন হয়ে বাসের সিটে ঘুমিয়ে পড়লে, তারা তাঁর সব কিছু ছিনিয়ে নেন।এখন তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!