দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। গ্যাস সংকটের কারণে টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কম সার উৎপাদিত হয়েছে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন।
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার জন্য প্রতিদিন ৭২ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত ৪ মার্চ যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১ এপ্রিল গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু হলে ৬ এপ্রিল থেকে আংশিক এবং ৯ এপ্রিল থেকে পূর্ণমাত্রায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। ফলে প্রায় ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।
তবে নতুন অর্থবছরে উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কারখানাটির পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, দৈনিক ১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা এবং ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা একীভূত করে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন এই কারখানাটি নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মোট উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টনে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ কারখানাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
কারখানা সূত্র আরও জানায়, নির্মাণ ব্যয়ের ঋণ পরিশোধের জন্য বছরে চারটি কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যার প্রতিটির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। উৎপাদন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। উৎপাদিত ইউরিয়া সার বিক্রির অর্থ থেকেই এসব কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

