AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
বিগত ১৭ বছরের ভীতিকর সময়ের স্মৃতিচারণ

নির্যাতনের শিকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত


Ekushey Sangbad
টি আই সানি, শ্রীপুর, গাজীপুর
০৮:৪০ পিএম, ২ জুলাই, ২০২৬

নির্যাতনের শিকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা, হামলা ও কারা-নির্যাতনের শিকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সম্মানে এক প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত ১৭ বছরের ভীতিকর সময়ের স্মৃতিচারণ কেরেন তারা।

শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনে এক মিলনমঞ্চে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সম্মানে এমন আয়োজন বিরল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ দলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত ১৭ বছরে তাঁদের ৩ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, ৭০০-র বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তাদের ত্যাগ ও অবদানের কারণেই দল আজ আরও সুসংগঠিত। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের সম্মান ও মূল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, এখন মূল কাজ হলো তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। অতীতে জেল খেটেছেন বা নির্যাতন ভোগ করেছেন বলে এখন উশৃঙ্খল আচরণ করা যাবে না, দল তা গ্রহণ করবে না। সবাইকে সুশৃঙ্খল ও ভালো আচরণ করার আহ্বান জানান। নির্যাতিত নেতাকর্মীরা যা চেয়েছিলেন তা পেয়েছেন।

তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। যার ফলে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

অনুষ্ঠানে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আক্তারুজ্জামান মোড়ল শামীম বলেন, মাননীয় নেতা, আজকে এখানে কষ্টের সাথে বলতে হয়, যারা আয়োজক, তাদেরকে ধন্যবাদ। কিন্তু একটা কষ্টও জানাতে হয়। যারা দলের দুর্দিনে আপনার পাশে ছিল না আজকে তারা আপনার ডানে-বামে বসে অনেক বড় বড় কথা বলে। আমার কষ্ট হয়। তাদের লজ্জা থাকা দরকার যে আমরা কোথায় ছিলাম দলের দুর্দিনে বাচ্চু ভাইয়ের সময়ে।

মাননীয় নেতা, একটি শেষ কথা বলে যাই। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অনেক বড় মাপের একজন নেতা। উনি অনেক কিছু করতে চেয়েছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান শুধু ‍‍`না‍‍` বলছেন। সারা বাংলাদেশের নেতা তারেক রহমান। আপনি আমাদের শ্রীপুর-৩ কনস্টিটিউটের নেতা। আপনার ন্যায়বিচার, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ চিন্তাই আগামী দিনে সকলকে দেখে রাখতে হবে। আপনি আমাদের তারেক জিয়া। আপনার বিকল্প কিছু নাই। আপনার কথা শুনবে না, এমন লোক বা এমন নেতা শ্রীপুরে তৈরি হয় নাই। যখন আপনাকে কেউ মানেই নাই, তখনই যেহেতু ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে পারছি, আর আপনি এখন আমাদের সকলের নেতা, আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে এটা কী করে কল্পনা করি?

আমি কষ্টের সাথে বলছি মাননীয় নেতা, আপনি একজন ডাক্তার। যখন এমপি ছিলেন না আমি বলেছিলাম আপনার একজন পিএ দরকার। তখন বলেছিলেন আমার মাথাটাই কম্পিউটার। যেখানে আমার সব সফটওয়্যার আছে, চিন্তা করো না। মাননীয় নেতা আমি বুঝতে পারছি না, আপনি এমপি হওয়ার পর আপনার সফটওয়্যার কি ধ্বংস হয়ে গেলো? আমাদের দলটাকে সুসংগঠিত করার দায়িত্ব তারেক জিয়া করে দিয়ে যাবে না, আপনাকেই করতে হবে। সেই কাজটি আপনি অতি শীঘ্রই শুরু করুন।

না হলে আমাদের মধ্যে অনেক অনেক ধ্বংসাত্মক অবস্থা শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমরা আওয়ামীলীগ দ্বারা নির্যাতিত হতাম সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন আমরা আমাদের কর্মী বাহিনী বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছি। এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, না হলে আমাদের দল ধ্বংস হয়ে যাবে, ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, আমার নামে ৫১টি মামলা। অনেকবার জেল খেটেছি। বাড়িতে হামলা হয়েছে কয়েক দফা। অন্য নেতাকর্মীদের অবস্থাও এমন। নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের নিয়ে আজকের এই আয়োজন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সবচেয়ে নির্যাতিত ছিল বিএনপি। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল বিএনপি। সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। আমরা একই সাথে ছিলাম, একই সাথে থাকবো।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বিল্লাল হোসেন বেপারী, মোসলেম উদ্দিন মৃধা, অ্যাডভোকেট আবু জাফর সরকার, অ্যাডভোকেট আহসান কবির, আবুল হোসেন প্রধান, রাজীবুল বেপারী, মামুন আকন, আক্তারুজ্জামান মোড়ল শামীম, আল-আমিন আকন্দ, মমিনুল কাদের, আমিনুল ইসলাম সরকার, আজিজুল হক রাজন, জাহিদুল ইসলাম সুজন, গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য দুলাল মিয়া প্রমুখ।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!