একজনের এক চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই, অন্যজনের একটি পা জন্মগতভাবে বাঁকা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার দুই সহোদর মো. রুবেল সেখ (৩৯) ও মো. আশিদুল ইসলাম (৩১)।
তাদের হাতে রয়েছে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র বা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড। তবে পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো তারা সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আসতে পারেননি। সহায়তার আশায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাননি বলে অভিযোগ তাদের।
জানা গেছে, রুবেল সেখ জন্ম থেকেই এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অপরদিকে ছোট ভাই আশিদুল ইসলামের একটি পা জন্মগতভাবে বাঁকা। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা তাদের জন্য কঠিন হলেও জীবিকার তাগিদে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
রুবেল স্থানীয় বাজারে একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। আর আশিদুল দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। তবে শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না বলে জানান তিনি।
দুই ভাইয়ের দাবি, ২০১৬ সালে তারা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেন। পরে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র পেলেও ভাতাভোগীর তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এরপর থেকে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
রুবেল সেখ বলেন, “আমরা দুজনই প্রতিবন্ধী। ভাতার জন্য বহুবার আবেদন করেছি। অফিসে গেলে শুধু অপেক্ষা করতে বলা হয়। কেউ কেউ কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকাও চেয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি।”
আশিদুল ইসলাম বলেন, “দিনমজুরি করে সংসার চালাই। শারীরিক সমস্যার কারণে সব সময় কাজ করতে পারি না। সরকারি সহায়তার আশায় ১০ বছর ধরে ঘুরছি, কিন্তু এখনো কোনো ফল পাইনি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের দ্রুত যাচাই-বাছাই করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে রুবেল ও আশিদুলের মতো অসহায় মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। এখন জেনেছি। দ্রুত খোঁজ নিয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

