পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক মেগা প্রকল্প সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহায়তায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে এবং পুরো কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদী ড্রেজিং করা গেলে তিস্তাপাড়ের মানুষকে নদীভাঙন ও অন্যান্য দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, পুরো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, তবে এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, সেচব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিস্তার সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এর বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে কাজ করছে। আগামী দুই থেকে এক মাসের মধ্যে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি শুধু নদীশাসন বা ভাঙন রোধে সীমাবদ্ধ নয়; শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মতবিনিময় শেষে তিনি তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার খোঁজখবর নেন। এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের কারিগরি বিষয় নিয়ে একটি বৈঠকেও অংশ নেন তিনি।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, রোকন উদ্দিন বাবুল এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

