চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ মরণনেশায় বলি হলো আরও এক তরতাজা প্রাণ। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধায় উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নি দুর্গাপুর গ্রামে নাঈম হোসেন (১৮) নামের এক যুবক নিজের হাত ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নাঈম ওই গ্রামের মিস্ত্রি বাড়ির আনোয়ার হোসেনের সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাঈম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার প্রভাবে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। পরিবার তাকে মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও কোনো সুফল মেলেনি। মাদক সেবনের টাকা ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ সৃষ্টি হতো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, সোমবার বিকেলে পুনরায় মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে পরিবারের ওপর অভিমানে নাঈম নিজের হাত ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে মায়ের ব্যবহৃত ওড়না নিয়ে বাড়ির অদূরে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, “মাদকাসক্ত এক যুবকের আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য তা চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এলাকাবাসীর অভিমত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ না করতে পারায় একের পর এক মেধাবী ও তরুণ প্রজন্মের প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে, যা পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

