AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

৯১ বছরেও সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত ‘লতিফুন নেসা’



৯১ বছরেও সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত ‘লতিফুন নেসা’

৯১ বছর বয়সী লতিফুন নেসার ভাগ্যে এখনো জোটেনি কোনো সরকারি ভাতার কার্ড। তাই স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-আর কত বয়স হলে তিনি এই সুবিধার আওতায় আসবেন? তিনি কোটচাঁদপুর-এর রুদ্রপুর বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী।

তবে ভবিষ্যতে তাঁকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ দীপা রানী সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী আবুল বিশ্বাস ৬০ বছর বয়সে মারা যান। বর্তমানে লতিফুন নেসার বয়স ৯১ বছর। বয়সের ভারে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। একবার পড়ে গিয়ে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় চলাফেরার জন্য এখন লাঠির ওপর নির্ভর করতে হয়। বয়স শারীরিক অক্ষমতা ও আর্থিক অবস্থার বিবেচনায় তিনি একাধিক সরকারি ভাতার জন্য যোগ্য হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভাতা কার্ড পাননি।

সংসার জীবনে ২ ছেলে আর ৫ মেয়ের জননী এই নারী। এরমধ্যে বিয়ে দিয়েছেন মেয়েদের। বাড়িতে থাকেন ২ ছেলে। বড় ছেলে কাশেম বিশ্বাস (৭০) আর ছোট ছেলে আবদুল খালেক বিশ্বাস (৬৫)। এরমধ্যে বড় ছেলে বয়সের ভারে রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ভাবে দূর্বল আর ছোট ছেলে শারীরিক প্রতিবন্দী। সে প্রতিবন্দী ভাতা পান।

স্বামীর মৃত্যুর পর লতিফুন নেসার ছেলেদের উপর নির্ভর করে চলে আসছে তাঁর জীবন। মাসের ৩০ দিন। তাঁর মধ্যে ১০ দিন করে ভাগ করে খেতে হয় তাঁর খাবার। এদিকে ছেলেরা মায়ের মুখে সময়মত খাবার দিতে পারলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়,তাঁর ঔষধ সহ অন্যন্যব্যয় মেটাতে গিয়ে।

এরপরও তাদের প্রত্যেকের রয়েছে পৃথক সংসার। তাঁরা তাদের সংসার সামলিয়ে অনেকটা হিমহিম খেতে হয় মায়ের ব্যয় মেটাতে গিয়ে।এরপরও ভাতার জন্য দীর্ঘদিন স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে ধন্য ধরেও কোন লাভ হয়নি। তবে সম্প্রতি ভাতার জন্য অনলাইন রেজিস্টেশন করেছেন লতিফুন নেসা।

লতিফুন নেসা বলেন,ভাতার টাকা পেলে আমার ইচ্ছে মত কিছু কিনে খাতি পারতাম। আর ছেলে মেয়েদের ছেলে মেয়ে তাদেরকে কিছু দিতি আমার ইচ্ছা করে। তা টাকা না থাকলে কিভাবে দেব। এ জন্য ভাতার টাকার দরকার।

লতিফুন নেসার বউমা  শেফালী খাতুন বলেন,আমাদের সংসার সামলিয়ে আমার শ্বাশুড়িকে দুই মুঠো খেতে দেয়া সম্ভব হয়। তাঁর অন্য ব্যয় মেটানো আমাদের পক্ষে খুবই কস্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। এ কারনে  ওনি  সরকারি ভাতা পেলে, তিনি ইচ্ছে মত খেতে পারতেন। চিকিৎসা করাতে পারতেন।

প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ বলেন,৩০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। সে সময় থেকে তিনি বিধবা। আর বর্তমান বয়স ৯১ বছর। সে ক্ষেত্রে তিনি বয়স্ক ভাতা পাবারও যোগ্য। আর পড়ে গিয়ে তিনি আঘাত প্রাপ্ত হয়ে লাঠির উপর ভর করে চলাফেরা করে থাকেন।

বর্তমানে তিনি সরকারি ৩ টি ভাতা পাবার যোগ্য। তারপরও আজও জোটেনি কোন ভাতার কার্ড। আর কত বয়স হলে তিনি ওই সুবিধা পাবেন এমন প্রশ্ন তোলেন এই প্রতিবেদকের কাছে।
তিনি বলেন,ভাতার কার্ড দিবে বলে বেশ কয়েক বার চেয়ারম্যান মেম্বররা ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি নিয়েছেন। তাঁরপরও কার্ড হয়নি আজও।

দোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন,অপেক্ষমান তালিকায় ওই নারীর নাম ছিল না। গেল ১৫ দিন আগে যে তালিকা হয়েছে, সেই তালিকায়, তাঁর নাম আছে। তিনি বলেন,  ইউনিয়নে ৪/৫ শ জনের তালিকা রয়েছে। এ কারনে তাঁর নামটা জানা সম্ভব হয়নি। ৩ দিন হল জানতে পেরেছি। সামনে সুযোগ আসলে ব্যবস্থা করা হবে।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ দীপা রানী সরকার বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম লতিফুন নেসা নামের এক নারী ৯১ বছর বয়স হলেও সরকারি কোন ভাতার আওতায় আসেনি।

এছাড়া জানতে পারলাম ইতোমধ্যে ওই নারী ভাতার জন্য অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। আপনারা অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের কাগজটা আমাকে দিবেন। আর ওই নারীকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিবেন। আমাদের সামনে সুযোগ আছে,আমি জোর চেষ্টা করবো ওই নারীকে সরকারি ভাতার আওতায় আনার।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!