ঈদের আগে চুল-দাড়ি কেটে নিজেকে পরিপাটি করার এখনই সময়। অন্যদিকে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ঈদের জামাতের প্রস্তুতি ও অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। তাই তো ছেলে-বুড়ো সবাই চুল-দাঁড়ি কাটার প্রয়োজনে নরসুন্দরদের কাছে আর তরুণীরা যাচ্ছেন বিউটি পার্লারে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে তাদের খুর-কাঁচির খচখচ শব্দ।
কারও চুল রাঙাতে হবে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে হবে, আবার কারও চাই মনের মতো ফেসিয়াল। মেহেদিতে হাত রাঙানো থেকে শুরু করে চুল ও পায়ের নখ পর্যন্ত চলছে পরিচর্যা। পোশাকের পাশাপাশি সাজসজ্জার বিষয়টি যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। কারণ, এর মধ্য দিয়ে মানুষের ব্যক্তিত্ব, রুচি, ভালো লাগা ও সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থাপনের যে তৃপ্তি ও পরিপূর্ণতা, তা ব্যক্তিকে করে আত্মবিশ্বাসী।
আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও পরোপকারের মহিমায় ভাস্বর ইসলামের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে বিরতিহীন কাজ করছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সেলুন কারিগররা। প্রায় সব সেলুন ও বিউটি পার্লারে সব বয়সীদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ছে। মানুষের চাপে সেলুনগুলোতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে দম ফেলারও যেন ফুসরত নেই সেলুন কারিগরদের। শেষ সময়ে নিজেদের সাজাতে পার্লারে ছুটছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা। বেশিরভাগ নারীই করছেন ভ্রু প্লাক, হেয়ার রিবন্ডিং ও ফেসিয়াল।
বুধবার (২৭ মে) সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন সেলুন ঘুরে দেখা যায়, সিরিয়াল দিয়ে বসে অপেক্ষা করছেন সেবা প্রত্যাশীরা। শেষ মুহূর্তে নিজেকে আকর্ষণীয় করতে তরুণ-যুবকরা ভিড় জমাচ্ছেন। বাদ যাচ্ছেন না বয়স্করাও। নরসুন্দরের দোকানগুলোতে কর্মব্যস্ততা থাকায় কথা বলার মতো ফুসরত তাদের নেই। ঈদ মৌসুমে বাড়তি গ্রাহকের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত কারিগর নিয়োগ দিয়েছেন সেলুন মালিকরা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নরসুন্দররা জানান, কাস্টমারদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। চুল কাটা, বডি ম্যাসাজ, বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল, দাড়ির বিভিন্ন কাটের পাশাপাশি অনেকেই আবার সাদা চুলে কালারও করছেন। অনেকেই নির্ধারিত সেবামূল্যের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বকশিশ দিচ্ছেন। ঈদের সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হলেও গ্রাহকদের ভালোবাসা ও বকশিশ তাদের কাজের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানান তারা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

