আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোনার মদন উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এবার নেই স্বাভাবিক উৎসবের আমেজ। সাম্প্রতিক বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ফসল, মাছের খামার ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
ঈদ ঘনিয়ে এলেও এখনো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারি কোনো অনুদান বা সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ কৃষকের ঘরে নেই স্বস্তি কিংবা ঈদের প্রস্তুতি। অনেকের বোরো ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, আবার কেউ গবাদিপশুর খাদ্য সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ফলে কোরবানির পশু কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর ঈদ এলেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও এবার বন্যার কারণে মানুষের মুখে হাসি নেই। অনেক পরিবার এখনো ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারেনি। শিশুদের মাঝেও নেই ঈদের আনন্দ।
একজন কৃষক বলেন, “বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসল নেই, টাকা নেই। সরকার যদি দ্রুত সহযোগিতা না করে তাহলে ঈদ কিভাবে করবো বুঝতে পারছি না।”
এদিকে সরকারি দুর্যোগ সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হলেও স্থানীয় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলছে, এখনো তারা কোনো ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তা পাননি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি অনুদান ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঈদের আনন্দ আরও ম্লান হয়ে যাবে।
মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার ৩২৯ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আগেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাওলিন নাহার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত তা বিতরণ করা হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

