পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের কামারপাড়াগুলো এখন টুং-টাং শব্দে মুখরিত। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য ছুরি, বটি, দা, চাপাতি ও ডাঁসাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র তৈরির পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘষামাজার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পের শ্রমিকরা। এতে বেড়েছে তাদের আয়-রোজগারও।
লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত, হাসাদাহ, বাঁকা, আন্দুলবাড়ীয়া ও উথলী এলাকা ঘুরে এমন ব্যস্ত চিত্র দেখা গেছে।
উথলী গ্রামের ঈশ্বর নরেন্দ্রনাথ কর্মকারের ছেলে শ্রী অনীল কুমার কর্মকার উপজেলার পরিচিত একজন কামার। তিনি বাবার হাত ধরে প্রায় ৪৮ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে ছেলে শ্রী অমল কুমার কর্মকারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনীল কুমার কর্মকার জানান, সারা বছরই তারা এই কাজ করেন। তবে কোরবানির ঈদ এলেই দা, বটি, ছুরি ও ডাঁসা তৈরি এবং পুরোনো অস্ত্র ঘষামাজার কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, “কাজের প্রচণ্ড চাপের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আগুনের পাশে বসে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে কাজগুলোর অর্ডার নেওয়া হয়েছে, সেগুলোই শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন করে আর অর্ডার নিচ্ছি না।”
নতুন অস্ত্র তৈরির খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে লোহার দাম অনেক বেড়ে গেছে। এক কেজি ওজনের একটি দা বা বটি তৈরি করতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়। এছাড়া ছুরির আকারভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়। পুরোনো অস্ত্র ঘষামাজা করতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অনীল কর্মকারের মতো কামারপাড়ার অন্য কামাররাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কামার আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “সারা বছর তেমন কাজের চাপ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলেই প্রচুর কাজের চাপ পড়ে। দিন-রাত কাজ করেও শেষ করতে পারছি না। নতুন নতুন অর্ডার আসছে। ঈদের পর আবার ব্যস্ততা কমে যাবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

