AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কীটনাশকে মৌপতঙ্গের মৃত্যু, হুমকিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ


Ekushey Sangbad
আব্দুল বাতেন, রাজশাহী
০৬:৫১ পিএম, ১৯ মে, ২০২৬

কীটনাশকে মৌপতঙ্গের মৃত্যু, হুমকিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, মৌপতঙ্গের মৃত্যু এবং পরিবেশগত বিপর্যয় নিয়ে রাজশাহীতে নীতি আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, পরাগবাহী পতঙ্গ ধ্বংসের ফলে শুধু প্রাণবৈচিত্র্য নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির স্বাভাবিক ভারসাম্যও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজশাহী নগরীর এসকে ফুড সেমিনার হলে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (BARCIK) ও গ্রিন কোয়ালিশন-রাজশাহী-এর যৌথ আয়োজনে “বাংলাদেশের নীরব পরাগসংকট: কীটনাশকনির্ভর কৃষি, মৌপতঙ্গের মৃত্যু ও পরিবেশগত বিপর্যয়” শীর্ষক এ নীতি আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের পরিবেশ ও প্রাণীবিজ্ঞানী, কৃষি গবেষক, মানবাধিকার কর্মী, মৌচাষী এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গ্রিন কোয়ালিশন-রাজশাহীর সভাপতি ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী।

পরে “বাংলাদেশের নীরব পরাগসংকট, বিষাক্ত কীটনাশক ও পরিবেশ বিপর্যয়: বরেন্দ্র অঞ্চলে কীটনাশকজনিত পরাগায়নকারী পতঙ্গের হ্রাস ও পরিবেশ অবক্ষয়-বহুপ্রজাতিক সংকট, কৃষি-রাসায়নিককীরণ” শীর্ষক নীতিপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এগ্রোইকোলজি চর্চা বাড়ানো গেলে বহুপ্রজাতিক সংকট ও পরাগবাহী পতঙ্গের বিলুপ্তি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জাতীয়ভাবে মৌপতঙ্গ ও পরাগায়ন সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ডাল, সরিষা, শাকসবজি ও অধিকাংশ ফলমূলের উৎপাদন প্রাকৃতিক পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মৌমাছি, ভোমরা ও অন্যান্য পরাগবাহী পতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আগাছানাশক ব্যবহারে মাঠের আইল, বন্য ফুল ও ঝোপঝাড় ধ্বংস হওয়ায় এসব পতঙ্গ তাদের খাদ্য ও আবাসস্থল হারাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, স্থানীয় জাতের ফসলের প্রাকৃতিক বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে নিজস্ব বীজ ব্যবস্থা হারিয়ে বহুজাতিক কোম্পানির হাইব্রিড বীজ ও রাসায়নিকনির্ভর কৃষির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রাণীবিজ্ঞানী ড. বিধান চন্দ্র দাস বলেন, বিশ্বে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌপতঙ্গ নথিভুক্ত হলেও বাংলাদেশে কোন কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে বা ঝুঁকিতে রয়েছে, তা নিয়ে সঠিক গবেষণা নেই। তিনি এ বিষয়ে জাতীয় গবেষণা ও তথ্যভাণ্ডার তৈরির দাবি জানান।

রাজশাহীর মৌচাষী মো. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং ওঠানামা করছে, যা মৌমাছির জন্য ক্ষতিকর। তিনি জানান, মৌমাছির আদর্শ তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর বেশি তাপমাত্রা হলে মৌমাছির মৃত্যু বাড়ে এবং মধু উৎপাদন কমে যায়।

আরেক মৌচাষী মো. শফিকুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, পবা উপজেলায় মধু সংগ্রহের সময় সবজি ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশকের কারণে তার ১২০টি মৌবক্সের মৌমাছি মারা যায়।

পবা উপজেলার কৃষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আগে ভোমরা ও মৌমাছি স্বাভাবিকভাবে পরাগায়নের কাজ করলেও এখন অনেক ফসলে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করতে হচ্ছে। তিনি অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার ও দেশি গাছপালা কমে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কৃষাণী সুলতানা খাতুন বলেন, আগের মতো এখন আর মাঠে ভোমরা বা বিভিন্ন উপকারী কীটপতঙ্গ দেখা যায় না।

নীতি আলোচনায় মাধ্যমিক তথ্য বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম-এর সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। তিনি বলেন, ফুল ফোটার সময় নির্বিচারে কীটনাশক স্প্রে করার ফলে পরাগবাহী পতঙ্গ সরাসরি বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এ সংকটকে শুধু কৃষি নয়, বৃহত্তর পরিবেশগত ও বাস্তুতাত্ত্বিক সংকট হিসেবে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ, জাতীয় পরাগায়ণকারী সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন, পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসার, বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচি এবং পরাগবাহী পতঙ্গ পর্যবেক্ষণে জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!