বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সংপ্রং ম্রো নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামে আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরীসহ আরও ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ডওলা ম্রোপাড়ার বাসিন্দা সংপ্রং ম্রোকে চিকিৎসার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ১৪ মে কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেনরুওয়া পাড়ার এক বছরের শিশু তুমরাও ম্রোর মৃত্যু হয়। সেও হামে আক্রান্ত ছিল।
ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, কুরুকপাতা ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সংপ্রং ম্রো, তুমরাও ম্রো, জংরুং ম্রো, খতং ম্রো, চাংমুম ম্রো, তাইতুং ম্রো ও যংরাও ম্রো।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত উপজেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩০৪ জন। তাঁদের মধ্যে ২৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ৭৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ছয়জনকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭৩ জন।
হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প চালু করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে এখন পর্যন্ত ৪১০ জন শিশুকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কুরুকপাতা ইউনিয়নে ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী দুই হাজার ৭৭৪ শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর সংপ্রং ম্রোর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে হামের পাশাপাশি ডায়রিয়ার লক্ষণও ছিল।
তিনি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে কমছে। হাসপাতালে হাম রোগীর ভর্তি সংখ্যাও কমেছে। তবে এখন উদ্বেগজনক হারে ডায়রিয়া রোগী বাড়ছে।
ডা. হানিফ আরও বলেন, স্বাধীনতার পর যেসব দুর্গম এলাকায় কখনও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়নি, সেখানে সেনাবাহিনীর সহায়তায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

