মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর বারান্দা থেকে নিচে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল (২৩ জুলাই) রাত ১১.৪৫ এর দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে এবং শিক্ষার্থী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগমারী সংলগ্ন সেনানগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসে রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ নাগাদ তারা কয়েকজন সহপাঠী ৩য় তলার নিজস্ব রুমের বারান্দায় আড্ডা দেওয়ার সময় হটাৎ নিহত শিক্ষার্থীর হাত পাশে থাকা মেইন কারেন্ট লাইনের তাঁরে লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হোন এবং বারান্দায় রেলিং না থাকায় পাশে থাকা পুকুরে পরে যান।
একই রুমে থাকা তার সহপাঠীরা জানান মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুতের প্রবল প্রবাহ তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তারা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই তার শরীর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে থাকা পুকুরে পড়ে যান।পুকুরে পড়ার পর তিনি একবার চিৎকার করেছিলেন, সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ চিৎকার। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত টাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২ টা ২২ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মনিরুজ্জামান মনির। তিনি আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার গ্রামের বাসা দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় মির্জাপুর গ্রামে।তার পিতার নাম শওকত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ জানান, শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘটনাটি জানালে দ্রত আমি হসপিটালে যাই। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা আসলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১দিনের শোক ঘোষণা করা হবে।
দায়িত্বরত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য রাহেদুল ইসলাম জানান, আমরা হসপিটাল এসে লাশ পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবার আসার পর তারা চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাঁর মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পরিবারের সম্মতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১২ টার দিকে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।জানাজা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
মনিরুজ্জামানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।এক শোকবার্তায় মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "একজন সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই অপূরণীয় ক্ষতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"
তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
এদিকে, ক্যাম্পাসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র শোকের ছায়া নেমে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ দেওয়ার পরও কেন বারান্দায় রেলিং দেয়নি মালিকপক্ষ তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।এছাড়া সঠিক সময়ে আ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

