AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কবি মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড, এলাকাবাসী অশ্রুসজল



কবি মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড, এলাকাবাসী অশ্রুসজল

‘দেব-অবতার ভাবি বন্দে যে তোমারে,
নাহি চাহে মন মোর তাহে নিন্দা করি,
তরুরাজ! প্রত্যক্ষতঃ ভারত সংসারে
বিধির করুণা তুমি তরু–রূপ ধরি।’

চারটি চরণ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বটবৃক্ষ’ কবিতা থেকে নেওয়া। তাঁর এই কবিতার স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি উপড়ে গেছে। শনিবার দুপুরের কালবৈশাখীর ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ায় যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের তীরের মানুষ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

যশোরের কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ঝড়ে উপড়ে পড়া মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি দেখতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে বেদনাহত, কেউ কেউ অশ্রুসজল।

রোববার সরেজমিনে কবির বাড়ির পূর্ব দিকে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকারের বটবৃক্ষটি উপড়ে পড়ে বড় একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে। এর আশপাশের গাছগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছে লাল ফল ধরেছিল। আশপাশের মানুষসহ অনেকেই এই গাছকে ঘিরে দুঃখ প্রকাশ করছেন।

এলাকাবাসী জানান, গাছটির শিকড়ে মাটি শক্তভাবে না থাকায় কালবৈশাখীতে এটি উপড়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কবির স্মৃতিবিজড়িত এই গাছটি সংরক্ষণে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা এই গাছ দেখতে আসতেন। এখানে কিছু সময় কাটাতেন, ছবি তুলতেন এবং আবেগ প্রকাশ করতেন। বটবৃক্ষটির নিচে একটি নদীর ঘাটও রয়েছে। এর তীরে একটি মন্দির এবং বড় বড় নৌকা বাঁধা থাকে।

এখানকার বাসিন্দা জ্যোৎস্না হালদার (৬০) জানান, ঝড়ের সময় তিনি গাছের পাশে বসে ছিলেন। এ সময় ঝড়ো বাতাসে বিকট শব্দে গাছটি উপড়ে নদীর কূলে পড়ে যায়। তখন তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে গিয়ে দেখেন, শিকড় উপড়ে গাছটি হেলে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুরের ঠাকুরদাদা ও বাবা এই গাছ দেখেছেন। ধারণা করা হয়, গাছটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো।’ তিনি এখানে নতুন একটি বটগাছের চারা রোপণের কথাও জানান।

বটবৃক্ষটির পাশেই বাড়ি উজ্জ্বল দত্ত বলেন, ‘এই বটবৃক্ষটি নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে আসতেন। এখন হয়তো আর কোনো পর্যটকের পদধূলি এখানে পড়বে না। গাছটি ভেঙে পড়ায় আমরা দুঃখে ভারাক্রান্ত।’

মুফতি তাহেরুজ্জামান তাজু জানান, ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি কবি ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ১৮৬৫ সালে লেখেন। এটি একটি চতুর্দশপদী কবিতা। তিনি সুদূর ভার্সাইয়ে বসে তাঁর শৈশবের স্মৃতিময় বটবৃক্ষকে নিয়ে কবিতাটি লিখেছিলেন। পরে ১৮৬৭ সালে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ গ্রন্থে এটি প্রকাশিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই স্মৃতিময় বটবৃক্ষটির রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কবির এই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ বলেন, মধুসূদন দত্তসহ জমিদার বাড়ির লোকজন এই নদীর ঘাট ব্যবহার করতেন। বিশেষ করে তাঁরা কলকাতা থেকে এসে এই ঘাটেই নামতেন। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে, ফলে একটি ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটল।

সাগরদাঁড়ি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গাছ রক্ষণাবেক্ষণের এখতিয়ার নেই। এ কারণে এ বিষয়ে তাদের করার মতো কিছু ছিল না। তবে গাছটি ভেঙে পড়ায় তিনিও মর্মাহত। তিনি বলেন, ওই স্থানে নতুন একটি বটগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘কালবৈশাখীতে বটবৃক্ষটি ভেঙে পড়ায় আমরা মর্মাহত। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গাছটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মানুষের আবেগ–অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় সেখানে নতুন একটি বটবৃক্ষ রোপণ করা হবে।’

 

একুশে সংবাদ/যাবিদ

Link copied!