জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দক্ষিণ কোরিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ওই গ্রামের মেধাবী তরুণ হাসিবুর রহমান (২৩)। তিনি মহেশপুর গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরোর বড় ছেলে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেও ইয়াং নামে একটি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা গেছে,গতকাল শনিবার(০২ মে) মধ্যরাতে পার্ট-টাইম কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন হাসিবুর রহমান। তিনি একটি ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আজ সকালে রবিবার(০৩ মে) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক। গ্রামের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল, প্রিয় সন্তানের এমন অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, হাসিবুর রহমান ছিলেন ভদ্র, মেধাবী ও পরিশ্রমী একজন তরুণ, যার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে শোকের মাতম। বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তাওফিক দান করুন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজাউল ইসলাম গভীর বেদনায় বলেন, হাসিবুর রহমান ছিল আমাদের গ্রামের গর্ব, ভদ্র আর স্বপ্নভরা একটি ছেলে। তার এমন নির্মম ও অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া সত্যিই অসম্ভব।মনে হচ্ছে পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি,আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন এবং তার শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধরার শক্তি দেন।
নিহত হাসিবুর রহমানের বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো গভীর শোক ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও ভদ্র ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছিলাম, যেন সে একদিন মানুষের মতো মানুষ হয়ে পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। কিন্তু ভাগ্য এত নিষ্ঠুর হবে, তা কখনো ভাবিনি।তিনি বলেন, গতকালও ছেলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল।সে বলছিল পড়াশোনা ও কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত, কিন্তু ভালো আছে। কে জানতো সেটাই হবে আমাদের শেষ কথা। আজ আমি আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না—এই কথাটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

