পেশাজীবনের শুরুটা ছিল একজন ফেরিওয়ালা হিসেবে। ব্যবসার খাতিরে বিভিন্ন এলাকায় ড্রামে পানি বহন করে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। এর ফলে বিভিন্ন এলাকার নানা মানুষের সঙ্গে পরিচিতি হয় তাঁর। আর এই পরিচিতি তাঁকে ঘটকালি পেশায় উদ্বুদ্ধ করে এরপর থেকে বিয়ের ঘটকালি শুরু করেন।
বলছি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামের ৪৭ বছর বয়সী মহারাজ মিয়ার কথা। এলাকার মানুষ তাঁকে ঘটক মহারাজ হিসেবে চেনেন এবং জানেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক বিয়ের ঘটকালি সম্পন্ন করেছেন তিনি।
জানা যায়, সংসারজীবনে ঘটক মহারাজ ৪ সন্তানের জনক। অবিবাহিত জীবনে তিনি পেশায় ছিলেন ফেরিওয়ালা। উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন স্হানে ঘুরে বাসা বাড়িতে খাবার বা রান্নার পানি বিক্রি করতেন। এই সুবাদে সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি গড়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, সদা হাস্যোজ্জ্বল ডিজিটাল ঘটক মহারাজ । অতি অল্প সময়েই যেকোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম তিনি। এই কৌশল কাজে লাগিয়ে পানির ফেরিওয়ালা থেকে স্বল্প সময়েই এলাকায় ঘটক হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
ঘটক মহারাজ বলেন, ভ্রাম্যমাণ পানি বিক্রি করার পাশাপাশি ২০ বছর ধরে ঘটকালি পেশা সম্মানের সাথে করে যাচ্ছি। এই পেশায় এসে যেমন পেয়েছি সম্মান, তেমনি ইনকামও ভালো হচ্ছে। গরিব মানুষের বিয়ে হলে উভয় পক্ষ থেকে পাই ২- ৫ হাজার টাকা। আর ধনী পরিবারের বিয়ে হলে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিশ পাই। ২০ বছরের ঘটকালি জীবনে এই পেশায় আল্লাহ ভালো রেখেছে। আল্লাহর রহমতে বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখে-শান্তিতে রয়েছি।
২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত ২৮৭টি বিয়ের ঘটকালি সম্পন্ন করেছেন মহারাজ। নিজ উপজেলা মোরেলগঞ্জ থেকে শুরু করে বাগেরহাট জেলাসহ পিরোজপুর অন্য জেলায়ও তিনি ঘটকালির মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষের বিয়ে-শাদি সম্পন্ন করে দিয়েছেন। আল্লাহ চাইলে জীবদ্দশায় ১ হাজার টি বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মহারাজ ।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

