AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

রাণীশংকৈলে তৈলবিহীন ব্যাটারিচালিত বাইক, ৫ টাকায় ১২০ কিমি পথ পাড়ি



রাণীশংকৈলে তৈলবিহীন ব্যাটারিচালিত বাইক, ৫ টাকায় ১২০ কিমি পথ পাড়ি

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা। দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। যখন এক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের রতন মহন্ত দেখাচ্ছেন ভিন্ন এক আশার আলো।

কোনো পেট্রল বা মবিল ছাড়াই মাত্র ৫-৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে তার মোটরসাইকেল ছুটছে ১২০ কিলোমিটার!

রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত পেশায় অটোভ্যান মেকানিক।  আগে সাইকেলের মিস্ত্রি ছিলেন। বর্তমানে কলেজ রোডে তার একটি যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে।

২০১৯ সালে শখ করে একটি পুরাতন ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি। কিন্তু কেনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। স্থানীয় মেকানিকরা বারবার চেষ্টা করেও বাইকটি পুরোপুরি সচল করতে পারছিলেন না। তেলের খরচ আর মেরামতের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে রতন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন— বাইকের ইঞ্জিনই ফেলে দেবেন!

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করেন রতন। বাইকের ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করেন ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। ব্যাটারির সঙ্গে মোটরের সংযোগ ঘটিয়ে তিনি বাইকটিকে রূপান্তরিত করেন বৈদ্যুতিক যানে।

প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রতন বলেন, শুরুতে যখন ব্যাটারি লাগিয়ে বাইক চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। ঠাট্টা-তামাশা করে বলেছে— এটা নাকি খেলনা! কিন্তু আমি দমে যাইনি। যখন তেলের অভাবে যখন মানুষ পাম্পে লাইন দিচ্ছে, তখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে।

রতনের এ উদ্ভাবনে সাশ্রয়ের হিসাবটা অবিশ্বাস্য। যেখানে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তেলচালিত বাইকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে রতনের খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ। পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ভোগান্তি নেই, নেই মবিল পরিবর্তনের বাড়তি ঝামেলা।

রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ জানান, রতনের এ বাইক বর্তমান সংকটে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুদ্ধ করতে হয়। অথচ রতন অনায়াসে চলাফেরা করছেন। খরচও নামমাত্র। আমি নিজেও এখন আমার বাইকটিতে ব্যাটারি লাগানোর কথা ভাবছি।

তার এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার বাড়িতে। অনেক মোটরসাইকেল চালক ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন নিজেদের বাইককেও ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য। বর্তমান জ্বালানি সংকটে এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রতন মহন্তের এই উদ্ভাবন একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প, তেমনি অন্যদিকে এটি একটি বড় প্রশ্নও ছুঁড়ে দেয়—আমরা কি এখনো প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকবো, নাকি সময়ের দাবি মেনে বিকল্প শক্তির দিকে এগিয়ে যাবো? 
 

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!