ঝালকাঠি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একই ভেন্যুতে এক দিনের ব্যবধানে দুই গ্রুপের পৃথক দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা আয়োজন তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গত ৩০ মে ও ১ জুন ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পৃথকভাবে শহীদ জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে দুই পক্ষ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি দুটি ধারায় বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর। তারা সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অপর অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন।
১ জুনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো এবং বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল।
অভিযোগ রয়েছে, এই গ্রুপের নেতৃত্ব অনেক নেতাকর্মী মেনে নিতে পারছেন না। এছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজন নেতারও এই পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, ৩০ মে অনুষ্ঠিত পৃথক আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম আযম সৈকত।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন খোকন মল্লিক, পৌর বিএনপির সভাপতি নাসিমুল হাসান খান, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপুসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, ১ জুনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া গ্রুপের সঙ্গে চাঁদাবাজি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা শামীম তালুকদার, কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক নিজাম মীরবহর এবং মাদক মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা জাহিদের যোগাযোগ রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আযম সৈকত বলেন, “ঝালকাঠি বিএনপির সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংকটের সমাধান সম্ভব।”
এ বিষয়ে ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার বলেন, “বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। বড় দলে কিছুটা গ্রুপিং থাকাটা স্বাভাবিক। আমি সেখানে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম। স্থানীয় নেতাকর্মীরাই বিষয়টি সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন।”
একুশে সংবাদ/ এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

