রাজশাহীর তানোরে অপারেটরের খামখেয়ালি পনা ও সময় মত সেচ না দেয়ার কারনে শেষ মুহুর্তে বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির চকসাজুড়িয়া মৌজায় ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা। সেচের পানি না পাওয়ার কারনে হুমকিতে পড়েছে বোর ধান। সবুজ পাতা শুকিয়ে গেছে, জমির মাটি ফেটে গেছে।
তারপরও অপারেটর নানা অজুহাতে দিচ্ছে না পানি। ফলে সময়মত পানি না পাওয়ার কারনে আবাদ হলেও আসবে না কাংখিত ফলন বলেও মনে করছেন কৃষকরা। কারন আর দুইটা মত সেচ হলেও উঠবে ফসল। আর এমুহূর্তে অপারেটরের এমন কান্ড হতাশ কৃষকরা।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড তাপদাহ বিরাজ করছে উপজেলা জুড়ে। তবে দিনের বেলায় তাপপ্রবাহ থাকলেও রাতে শিতল হাওয়া বিরাজ মান। সেচ দেয়া মাত্রই থাকছেনা জমিতে পানি। আর পানির অভাবে ৬নং কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজার জেল নং-২৩৯ দাগ নং- ৬১ অপারেটর মোঃ রনি ইসলাম।
চকসাজুড়িয়া কাজিপাড়া এলাকার কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। যে ধানক্ষেত একসময় সবুজে ভরা ছিল, আজ তা পানির অভাবে বিবর্ণ হয়ে মরতে বসেছে। অভিযোগ উঠেছে, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু হেনার ডিপ টিউবয়েল থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করায় বিঘার বিঘা জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে।
মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত রোদে পুড়ে খা খা হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ধানের গাছগুলো পর্যাপ্ত রস না পেয়ে হলদেটে হয়ে নুয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকই বলছেন, আর কয়েকদিন এভাবে চললে ধানের ফলন তো দূরের কথা, গাছ বাঁচিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, তারা সময়মতো সেচ না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। কাজিপাড়া এলাকার একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা রনির ডিপের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সঠিক সময়ে পানি না দেওয়ায় আমাদের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বার বার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, গভীর নলকূপে সেচ দেয়ার জন্য বিঘা প্রতি হার ধরা হয়েছে ১৫শো টাকা। সবাই টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। অথচ হারের কোন নিয়ম নেই। তারপরও আদিকালের নিয়মেই দেয়া হয় সেচ। আমরাও কোন প্রতিবাদ করিনা। কারন প্রতি গভীর নলকূপে হারের মাধ্যমেই চলে সেচ কার্যক্রম। কিন্তু সেচ কার্ডে সেচ দেয়ার নিয়ম থাকলেও কেউ মানেনা।
অফিসও এসব বিষয়ে কোন কিছুই করতে চাই না। আর দু তিনটা সেচ হলে ফসল ঘরে উঠবে। সার কীটনাশকের বাড়তি দাম। একবিঘা জমি রোপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত নিম্নে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হবে। অথচ ধানের দাম নেই। আবার বৈশাখ। কাল বৈশাখী ঝড় হলে ধানের বারোটা বেজে যাবে। এত কষ্টের চাষাবাদ যদি সেচের জন্য মরে যায় তাহলে এর চেয়ে কষ্ট আর কি হতে পারে। গভীর নলকূপে প্রায় ২৫০ বিঘার স্কীম। তার মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমির ধান সেচের পানি না পাওয়ার জন্য গাছ মরে যাচ্ছে।
তবে অপারেটর রনি জানান, সেচের তেমন সমস্যা নাই। প্রায় ২০০ বিঘার বেশি স্কীম। কারো কোন সমস্যা হচ্ছে না। কয়েকজন কৃষক শুক্রতা মুলুক এসব করছে। মাত্র ৮/১০ বিঘা জমির সমস্যা হয়েছে। এখন সে সমস্যাও নাই।
তানোর বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান জানান, জমি সেচ দেয়ার জন্যই তো গভীর নলকূপ। কোন অপারেটর সেচ না দিলে কৃষকরা সাথে সাথে অফিস কে অবহিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

