নওগাঁর মান্দায় এক প্রধান শিক্ষকের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেনসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন—মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন (৪৮), তার স্ত্রী তোহুরা বেগম (৪৪), খালাতো বোন শান্ত বেগম (৩৫) এবং সহকারী শিক্ষক এনামুল হক (৪০)। তাদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তোহুরা বেগম ও শান্ত বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন জানান, সকালে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিবেশী ময়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে স্ত্রী ও বোনকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে ৯৯৯-এ কল দেন।
আকরাম হোসেনের অভিযোগ, ময়েজ উদ্দিন ও আল মামুনের নেতৃত্বে ৪০–৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করার পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক এনামুল হক ঘটনার ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও দুর্নীতির একাধিক মামলা রয়েছে। এসব বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ফেরার পথে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে তাদের অপহরণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করার পর ওই সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালায়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

