AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ডিজেল সংকটে বোয়ালখালীতে ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা



ডিজেল সংকটে বোয়ালখালীতে ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে সম্প্রতি জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন বোয়ালখালী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। ডিজেলের কৃত্রিম সংকটের কারণে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দামে কিনে সেচ পাম্প চালাতে হচ্ছে। এর ফলে সেচ খরচ বেড়েছে এবং ক্ষেতের ফসল নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।

বোরো আবাদ মৌসুমে সেচ পাম্প চালানো এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন হলে, বাড়তি দাম ও প্রাপ্যতার অভাবে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে একাধিক কৃষক জানিয়েছেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সব বিলে ডিজেল চালিত পাম্পের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে বোরো ধান, সবজি ও ডালজাতীয় ফসলের চাষ করা হয়। বোয়ালখালী উপজেলার সব ইউনিয়নের আবাদযোগ্য জমিতে এসব ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। সম্প্রতি ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে তেল সহজে মিলছে না।

কয়েকজন বিক্রেতা ডিজেল বিক্রি করলে লিটার প্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়তি দামে নিচ্ছেন। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাম্প থেকে কিনলেও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় সেচ পাম্প চালকরা খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

খোঁজে জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলায় একমাত্র জ্বালানি তেলের পাম্প রয়েছে পূর্ব কালুরঘাটে, যা পূর্বাঞ্চল থেকে প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার দূরত্বে। অধিকাংশ কৃষি জমি ও বাগান পূর্বাঞ্চলে হওয়ায় ডিজেল পরিবহনে ভাড়াও যোগ হয়।

শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক মানিক বড়ুয়া জানান, সেচ না দিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই খুচরা তেল বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ১৩০ টাকায় ডিজেল কিনছেন, পাম্প থেকে কিনলে তা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত।

আহল্লা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, সারোয়াতলী ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন, জাকারিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মাসুম একই সুরে বলেছেন, কেউ বোরো আবাদ করছেন, কেউ সবজি চাষ করছেন। বাড়তি দামে ডিজেল কিনতে হওয়ায় সেচ খরচ বেড়েছে। সারোয়াতলী ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম বলেন, কয়দিন পর বোরো ধানের শীষ বের হবে, তাই ক্ষেতে পানি দিতে বাধ্য।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে ১,৬৯৩ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১,৮০০ হেক্টর জমিতে। ডিজেল চালিত পাম্পের মাধ্যমে ৪০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি এলএলটি পাম্প ও ১৯০টি ফ্যাকশনাল পাম্প। এসব পাম্পের সাহায্যে শাক-সবজি ও বোরো ধানের চাষাবাদ হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানুর ইসলাম বলেন, এখন ধানে শীষ বের হচ্ছে। শীষ বের হওয়া থেকে দানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি না দিলে ফলন কম হবে। তিনি জানান, বিক্ষিপ্তভাবে কৃষকদের কাছ থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে। তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সেচ পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মনিটরিং চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ জ্বালানি তেল মজুদ করতে না পারে এবং কৃষকরা সহজে তেল পেতে পারে।

 

একুশে সংবাদ/যাবিদ

Link copied!