পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা সেতুতে। ঈদযাত্রার শুরুতেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটে চলেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ বাড়লেও টোলপ্লাজায় কোনো যানজট দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বাড়তি চাপ সামাল দিতে মাওয়া প্রান্তে সাময়িক বুথসহ অতিরিক্ত ৩টি টোলবুথ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে মাওয়া প্রান্তে ১০টি এবং জাজিরা প্রান্তে ৯টিসহ মোট ১৯টি টোলবুথ সচল রয়েছে। ফলে যানবাহন দ্রুত টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে পারছে।
তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৭ হাজার ১৮৬টি এবং জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১১ হাজার ৪৩৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। সব মিলিয়ে উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ২৮ হাজার ৬২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা।
এদিকে মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ১০ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১২ হাজার ১৫২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে ওই সময় টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা।
পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও দীর্ঘ যানজট নেই। যাত্রীরা স্বস্তিতে সেতু পারাপার করছেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম) জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, মাওয়া টোলপ্লাজায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট নেই এবং সুশৃঙ্খলভাবে যান চলাচল করছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

