আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠেছে শ্রীপুরের ঈদের বাজার। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে ছোট-বড় মার্কেট, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেট ও শপিং মলে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। পিছিয়ে নেই ফুটপাতের বেচাকেনাও। স্বল্প দামে পছন্দের পোশাক কিনতে সেখানেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রোজার শুরু থেকেই কেনাকাটা শুরু করেছেন ক্রেতারা। ফলে ব্যবসায়ীরাও বেচাকেনায় সন্তুষ্ট।
শনিবার (১৪ মার্চ) শ্রীপুর উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বনলতা সুপার মার্কেট, খান মার্কেট ও রনি ফ্যাশনে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এসব মার্কেটে মানুষের ভিড়ে হাঁটাও দায়। মার্কেটজুড়ে বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের দরদাম—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বরমী বাজারের বোরহান সরকার প্লাজা, জনতার মোড়ের জব্বার ফকির মার্কেট এবং খেয়াঘাট মসজিদ মার্কেটেও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলছে। আশপাশের ফুটপাতের দোকানিরাও কম লাভেই পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানান বিক্রেতারা।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা নামি-দামি ব্র্যান্ড পছন্দ করলেও কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। বড় বড় শপিং মলে যেতে তারা অনেক সময় দ্বিধাবোধ করেন। তাই ঈদের কেনাকাটায় তাদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে ফুটপাতের দোকানগুলো। ক্রেতারা বলছেন, ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ হারে, সেই তুলনায় আয় বাড়েনি। এজন্য ঈদের কেনাকাটায় ফুটপাতই তাদের প্রধান ভরসা। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও ফুটপাতের দোকানে ঝুঁকে পড়ায় ক্রেতার সমাগম বেড়েছে।
_Eid Bazar.jpg)
সুযোগ বুঝে অনেক বিক্রেতা পণ্যের কিছুটা বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। তবে দরদামের পর ক্রেতাদের ফেরত দিচ্ছেন না। ঈদের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে না পারলে পরে লোকসান গুনতে হবে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেক বিক্রেতা অল্প লাভেই পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানান।
শ্রীপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রের মার্কেটগুলোতে পাঞ্জাবি-পায়জামা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেও দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। বাজারের অস্থায়ী কাপড়ের দোকানগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্ট, জুতা এবং শিশুদের পোশাক। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকছে। একই এলাকায় বিভিন্ন মার্কেটে চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের পোশাক ও পণ্য পাওয়া যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন এখানে কেনাকাটা করতে আসছেন।
নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা জানান, শ্রীপুর, মাওনা চৌরাস্তা, বরমী, কাওরাইদ, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, সিএন্ডবি বাজার, নয়নপুর ও রাজাবাড়ী বাজারের বড় বড় মার্কেটে কাপড়ের দাম তুলনামূলক বেশি। সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। এজন্য ফুটপাতকেই কেনাকাটার জন্য বেছে নিয়েছেন তারা।
মাটিকাটা শ্রমিক কায়েতপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মিয়া মেয়ের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা এই ফুটপাতই। মার্কেটে ঢুকতে সাহস পাই না। ফুটপাত থেকেই ভালো দেখে কেনার চেষ্টা করছি। এখানে মার্কেটের তুলনায় কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়।”
মা মারিয়া আক্তারের সঙ্গে নতুন জামা কিনতে এসেছে দুই বোন ইরিন ও ঈলমা। তারা বলে, “ঈদ সবার জন্যই আনন্দের। প্রতি বছর ঈদে নতুন কাপড় কিনতে আসা এক ভিন্ন অনুভূতি দেয়। বাজারে অনেক সুন্দর পোশাক এসেছে। তাই নিজেদের পছন্দমতো কাপড় কিনতে এসেছি। আশা করছি বাজেটের মধ্যেই কেনাকাটা করতে পারব।”
আরেক ক্রেতা মাহবুবা আক্তার স্বপ্না বলেন, “সাদ ও সারা—আমার দুই সন্তানের জন্য কেনাকাটা করেছি। আমিও একটি শাড়ি কিনেছি। বাচ্চাদের জন্য প্যান্ট-শার্ট ও থ্রি-পিস নিয়েছি। গত বছরের তুলনায় এবার দাম মোটামুটি ভালোই পেয়েছি। তবে কিছুটা দরদাম করেই কিনতে হয়েছে।”
বাবার সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছে রিফান। সে জানায়, “আজ বাবার সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। প্রথমে আমার জন্য একটি প্যান্ট-শার্ট কিনেছি। এখন বাবার জন্যও কিছু কেনাকাটা করছি। পরিবার নিয়ে একসঙ্গে মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে খুব ভালো লাগছে।”
মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারের গাউছিয়া ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী সেলিম শেখ বলেন, “এবার আমার দোকানে লেডিস আইটেমই বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমি সবসময় নতুন নতুন লেডিস কালেকশন আনার চেষ্টা করি, যাতে ক্রেতারা পছন্দমতো পণ্য বেছে নিতে পারেন। নিম্ন আয়ের ক্রেতা থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের ক্রেতাও দোকানে কেনাকাটা করেন। আমরা সীমিত লাভ রেখে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আশা করছি ঈদের আগের দিন চাঁদরাত পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

