পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় গাজী গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
নিহত নিবিড় গাজীর বাড়ি রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেফার করা হলে হয়তো এ ঘটনা এড়ানো যেত।
নিহতের এক স্বজন বলেন, “ডাক্তার প্রথমে বলেন সমস্যা নেই। কিন্তু মৃত্যুর ১০-১৫ মিনিট আগে ডাক্তার নোমান পারভেজ আমার স্বাক্ষর নিয়ে পটুয়াখালী নিয়ে যেতে বলেন। ততক্ষণে আমার ছেলে মারা গেছে।”
এ বিষয়ে জানতে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নোমান পারভেজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “রোগীর ডায়রিয়া খুব বেশি ছিল। জানা গেছে, তিনি প্রায় সাত-আট দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত পানি ও লবণের ঘাটতির কারণে ওষুধে তেমন কাজ হচ্ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “রোগীকে রেফার করা হয়েছিল। শুরু থেকেই বলা হয়েছিল রোগীর অবস্থা ভালো নয়। কিন্তু পরিবারের লোকজন নিতে পারেনি। তাই বন্ডসই রেখে চিকিৎসা চলছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান।”
এদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী বলেন, “নিবিড় গাজীর অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়নি। ফলে এ উপজেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য নদী পেরিয়ে গলাচিপা বা পটুয়াখালীতে যেতে হয়। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রাঙ্গাবালীতে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু না হলে ভবিষ্যতেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

