বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ স্বাস্থ্যসেবার চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার আবার চালু হয়েছে। এতে স্থানীয় রোগীরা স্বল্প খরচে অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন মাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. কামাল হোসেন মুফতি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অপারেশন থিয়েটার পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে এখানে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
প্রতিদিন সকালে হাসপাতালে এসে তিনি ইনডোর ও আউটডোর রোগীদের খোঁজখবর নেন, চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এখন শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতিই নয়, রয়েছে দায়িত্ববোধ ও মানবিক সেবার অঙ্গীকার।
হার্নিয়া অপারেশনের এক রোগীর স্বজন মাহবুব মিয়া বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। বাইরে বড় হাসপাতালে গেলে হয়তো চিকিৎসা করাতে পারতাম না। এই হাসপাতালে ডা. কামাল স্যার আমার বাবার অপারেশন করেছেন।”
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে রোগীদের দীর্ঘ সারি। টিকিট সংগ্রহ করে তারা আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামাল মুফতিকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করতে এবং চিকিৎসক-নার্সদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্স ও মিডওয়াইফ রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন।
বলইবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল বলেন, “বাচ্চার জ্বর-কাশি হওয়ায় ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। ডাক্তার দেখিয়েছি, বিনামূল্যে ওষুধও পেয়েছি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে আসা রোগীদের যথাসম্ভব উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালটিতে জনবল সংকট রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সারা বছর রোগীদের জন্য যে পরিমাণ ওষুধ প্রয়োজন, সরকারি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় তা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায় না। তবুও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

