বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের সহরবানু এতিমখানার হিফয বিভাগের এতিম ছাত্র আব্দুস সাকুর । জন্মের পর থেকেই দেখেনি বাবাকে। মা-ও ছেড়ে গেছেন অনেক আগেই।
রক্তের সম্পর্কের আপনজন বলতে এখন তার নানা-নানি। তবে বছরের পুরো সময় কাটে এতিমখানাতেই। বাবা ভারতে বসে মারা গেছেন,মা কোথায় জানা নেই সাকুরের।
আব্দুস সাকুর জানান,আমি কোরানের হাফেজ হতে চাই,১৭ পারা কোরআন খতম দিয়েছি,৩০ পারার হাফেজ হতে চাই,তারপর জেনারেল লাইনেও পড়ার ইচ্ছে আছে। ঈদ সামনে এলেই অন্যদের মতো তার মনেও জাগে আনন্দের প্রত্যাশা। কিন্তু সহপাঠীরা যখন ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে যাবে, তখন এতিমখানার একটি নিরিবিলি কক্ষে হয়তো একা পড়ে থাকতে হবে সাকুরের।
পিতা-মাতা হারা এতিম আব্দুস সাকুরের চোখে মুখে বিষাদের ছাপ,কেননা, ঈদের আনন্দ তার নতুন জামায় নয়, নয় মজাদার খাবারের সমারোহে, পুরনো পাঞ্জাবীতেই ঈদের নামাজ হবে,তবুও নেই পরিবারের উষ্ণতা। নেই বাবার স্নেহ, মায়ের মমতা।
প্রতিস্ঠানটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এতিম সাকুরকে শহরভানু এতিমখানায় সম্পুর্ন ফ্রিতে আমার প্রতিস্ঠানে পড়াশোনা করাচ্ছে,সে ১৭ পাড়া কোরআন হিফজো করেছেন, তার আশা সে এখান থেকেই সম্পুর্ন কোরআন খতম করবেন,এতিমখানার পরিচালক মাওলানা সালমান জানান,তার যাবতীয় খরচ মাদ্রাসা কতৃপক্ষ বহন করেন।
ঈদ আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, শোয়াইবুলের মতো এতিম কিশোরের কাছে এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় তাদের অপূর্ণতার গল্প।পরিবারবিহীন ঈদ সাকুরের হৃদয়ের শূন্যতা পূরণ করা সহজ নয়।
সমাজের একটু সহমর্মিতা আর ভালোবাসাই পারে শোয়াইবুলের ঈদকে সত্যিকারের আনন্দময় করে তুলতে। সমাজের বৃত্তবানরা কোন সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৯১৮৮০৯৬৫৪( বিকাশ পারসোনাল) নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

