ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত বুধবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মফিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমদিকে তিনি নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পরে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের ৬৫টি দোকানঘরের ভাড়া আদায়ে অনিয়ম করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে তিনটি দোকানঘর নামমাত্র ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়ে তা বেশি ভাড়ায় অন্যের কাছে দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও বিদ্যালয় ফান্ড থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন গ্রহণ এবং অন্যান্য এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রায় ১২ লাখ টাকা স্থানীয় তহবিল থেকে বেতন প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পীরগঞ্জের সাবেক ইউএনও তাছবীর হোসেনের বদলির দিন বিদ্যালয় ফান্ড থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করা হলেও প্রভাতি শাখার চাকরিচ্যুত ১০ জন শিক্ষকের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া এসএসসি ২০২৫ পরীক্ষার কেন্দ্র ফি থেকে আদায়কৃত অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার আয় থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে অর্থ তছরুপের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া ২০২৫ সালে একটি প্রকাশনীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করে পিকনিক খাতে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে অভিভাবক সদস্যকে আহ্বায়ক দেখানো হলেও তাকে অবহিত না করে উন্নয়নের নামে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বই দেওয়ার নামে বা অন্য প্রয়োজনে অফিস কক্ষে আসা একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি অশোভন আচরণ করেছেন। তার এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শিক্ষিকাকে হুমকি ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পছন্দের ব্যক্তিদের অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, ভোকেশনাল শাখার এক ট্রেড ইন্সট্রাকটরকে দ্বৈত বেতন সুবিধা প্রদান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মসজিদ ফি আদায় করেও ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন পরিশোধ না করা এবং মামলা পরিচালনার নামে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজু ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভায় প্রতিবাদ জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি ম্যানেজিং কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল সাজু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

