AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

তানোরে আলু চাষিদের মাথায় হাত


Ekushey Sangbad
সারোয়ার হোসেন, তানোর, রাজশাহী
০৫:৫৫ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২৬

তানোরে আলু চাষিদের মাথায় হাত

গত মৌসুমের লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই লাভের আশায় আলু রোপণ করেছিলেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষকরা। কিন্তু সেই আশায় নেমেছে হতাশার ছায়া। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। বাজারে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হলেও আলুর দাম তলানিতে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।

বর্তমানে কৃষকরা মাঠ থেকেই প্রতি কেজি আলু ১১ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুগুণ। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, কীটনাশক ও সারের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে চাষাবাদে খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে রোপণের সময় পটাশ সার দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। এতে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেচ খরচও বেড়েছে।

আলু চাষি মইফুল জানান, তিনি প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। গত মৌসুমে আগাম বিক্রির কারণে কিছুটা লোকসান পুষিয়ে নিতে পারলেও এবার ১২০ বিঘা জমিতে চাষ করে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার ভাষ্য, “প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে বিঘায় ২০-২৫ হাজার টাকা লোকসান হবে।”

গাগরন্দ গ্রামের আলু চাষি মুসলেম জানান, গতবার ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

একাধিক কৃষকের অভিযোগ, হিমাগার মালিক সমিতির সিন্ডিকেটের কারণে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এক মাস আগেও আলুর দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১১-১২ টাকায়। রোপণের সময় দ্বিগুণ দামে সার ও কীটনাশক কিনতে হলেও এখন উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা।

কৃষকদের ভাষ্য, আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হতো, এবার সেখানে খরচ হয়েছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা। বাড়তি দামের কারণে পর্যাপ্ত সার-কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি, ফলে প্রতি বিঘায় ৮-১০ বস্তা পর্যন্ত ফলন কম হয়েছে।

এছাড়া গভীর নলকূপের সেচ খরচ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের দাবি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে প্রতি বিঘায় ২ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত সেচ খরচ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ২৫ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে।

দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব চাষাবাদে রোগবালাই আছে কিনা তা দেখা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। বাজারদর নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিপণন বিভাগের আওতাধীন।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকরা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!