মাদারগঞ্জ উপজেলায় ভোটের দিন রুবিনা আক্তার বন্না (২৬) নামে এক গৃহবধূকে গলা ও হাত কেটে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তাঁর আপন মামা সোহেলকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সোহেলকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। পরদিন সকালে তাঁকে জামালপুর জেলা আদালতে পাঠানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেননি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় রুবিনা আক্তার বন্নাকে গলা ও হাত কেটে হত্যা করা হয়। তিনি মেলান্দহ উপজেলার আদড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সুমন মিয়া মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে নিহতের আপন মামা সোহেলকে আটক করা হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই বন্না তাঁর নানাবাড়ি মিলন বাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। প্রায় তিন মাস আগে মালয়েশিয়া প্রবাসফেরত সুমন মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল।
স্বজনদের দাবি, সম্প্রতি সুমন মিয়া পুনরায় প্রবাসে যেতে সময় লাগবে বলে জানান এবং এর মধ্যে জীবিকার জন্য অটোরিকশা চালানোর পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি নিয়ে বন্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অটোরিকশা না কেনার অনুরোধ জানান। তবে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে তাঁকে বোঝানো হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
ঘটনার আগের রাতে তাঁর মামা, খালা ও নানী তাঁকে বোঝান যে জীবিকার জন্য কাজ করতে লজ্জার কিছু নেই। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলে বন্না বাড়িতে একা ছিলেন। পরে বাড়িতে ফিরে তাঁর মামা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনরা আরও জানান, গত ২০-২৫ দিন ধরে বন্না মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল।
নিহতের স্বামী সুমন মিয়া বলেন, তিনি অটোরিকশা চালাতে পারেন না এবং কোনো অটোরিকশা কেনেননি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর সুখের সংসার শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার চাই। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে আমার কোনো দাবি নেই।”
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

