জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কৃষকের জমির সরিষা জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ফিদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন ও দলীয়ভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এক কৃষক মোমিন ইসলামের পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক সেই জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত।

অভিযোগ রয়েছে, মোমিন ইসলামের চাচাত ভগ্নিপতি মেহেদী মাসুদ বিরোধপূর্ণ জমির সরিষা কাটার উদ্দেশ্যে গত শনিবার(২১ ফেব্রুয়ারি) জেলা যুবদলের নেতা আনোয়ার হোসেন ফিদাসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কৃষকের জমি থেকে সরিষা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সময় অসহায় কৃষক মোমিন ইসলাম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সরিষা কেটে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কালাই কৃষি ব্যাংক পাড়া এলাকায় মেহেদী মাসুদের বাড়ির সামনে স্তুপ করে রাখা সরিষা উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মোমিন ইসলাম বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, ভূক্তভোগী কৃষকের প্রতিপক্ষ চাচাত ভগ্নিপতি কালাই কৃষি ব্যাংক পাড়ার আব্দুল জলিলের ছেলে মেহেদী মাসুদ, জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ফিদা, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাহিদ হাসান,বেগুনগ্রামের আব্দুল জলিল,মাদারপুর গ্রামের আলিফ হোসেন, ঝামটপুর গ্রামের আমিনুর ইসলাম,তালোড়া বাইগুনী গ্রামের ইমন মিয়া, দূর্গাপুর গ্রামের সৌরভ হোসেন এবং মাদাপুর গ্রামের ইমন হোসেন। তারা সবাই যুবদল ও ছাত্রদলের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন ফিদাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়,তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দলীয় নীতি,আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে জানানো হয়।একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর জেলা পর্যায়ে তদন্ত করে কেন্দ্রকে অবহিত করা হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার ভিত্তিতে আনোয়ার হোসেন ফিদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

