AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

জেগে ওঠা যমুনার চরে স্বপ্নের লড়াই


Ekushey Sangbad
লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি
১১:৩৩ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জেগে ওঠা যমুনার চরে স্বপ্নের লড়াই

যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরে এখন সবুজের সমারোহ। উর্বর পলিমাটিতে সোনালি দিনের স্বপ্ন বুনছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। নানা ফসলের আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ যেন এক নীরব কৃষি বিপ্লব—যমুনার চর এখন স্বপ্নের লড়াইয়ের প্রতীক।

একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে নতুন চর জেগে ওঠা—প্রবাহমান যমুনার ভাঙা-গড়ার মাঝেই লড়াই করে বাঁচতে হয় নদীপাড়ের মানুষকে। একসময় বিস্তীর্ণ জমি বছরের পর বছর পতিত পড়ে থাকত। এখন সে চিত্র পাল্টেছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষ নতুন জেগে ওঠা চরে বুনছেন স্বপ্ন। তাদের কঠোর পরিশ্রমে বালুচর আজ ফলনের ‘সোনার মাঠ’।

স্থানীয়রা জানান, গত প্রায় ২০ বছরে যমুনায় ধীরে ধীরে নতুন চর জেগে উঠেছে। প্রতিবছরই বাড়ছে চরের পরিধি। নদীর উভয় তীরের অনেক পরিবার জীবিকার প্রয়োজনে এসে ঘর বেঁধেছেন এসব চরে। জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাদও বেড়েছে। এখন ধান, পাট, ভুট্টা, মরিচ, গম, মসুর, খেসারি, ছোলা, চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, তিসি, কালোজিরা, আখ ও মাসকালাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হচ্ছে। একসময়ের অনাবাদী বালুচর আজ শস্যভান্ডারে রূপ নিয়েছে।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারী ডোবা গ্রামের ছকিনা বেগম বলেন, “বাপ-দাদার বসতভিটা প্রায় ৪৫ বছর আগে নদীতে ভেঙে যায়। তখন পাশের জেলায় আশ্রয় নিতে হয়েছিল। অনেক কষ্টে জীবন কাটিয়েছি। এখন আবার জমি জেগে ওঠায় আমরা ফিরে এসে ঘরবাড়ি করেছি।”

ষাটোর্ধ কৃষক আহেদ আলী জানান, বর্ষা মৌসুমে চর পানির নিচে থাকায় বালুর ওপর পলি জমে। এতে জমির উর্বরতা বাড়ে এবং ফলন ভালো হয়। “এই জমি আবাদ করেই এখন আমাদের জীবন চলছে,” বলেন তিনি।

অপর কৃষক আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, “বাপ-দাদার ভিটায় মাটি কেটে উঁচু করে ঘর তুলেছি। জমি এক ফসলি, পাঁচ মাস বন্যার পানি থাকে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পলিমাটিতেই চাষ করি। পলি প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে, ফলে খরচ কম হয়।”

তবে কৃষকদের অভিযোগ, চরে নানা ফসলের আবাদ হলেও কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি খুব কম পাওয়া যায়। তারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে গভীর নলকূপ বা বিকল্প সেচব্যবস্থা চালু করা গেলে আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন। মাঠকর্মীরা দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভাঙনের বেদনা বুকে নিয়েই যমুনার চরবাসীর নতুন স্বপ্ন বোনা। প্রকৃতির নির্মমতার মাঝেও তারা গড়ে তুলছেন সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা—জেগে ওঠা চরে স্বপ্নের লড়াই চলছে অবিরাম।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!