১২ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাদিয়ার সকাল শুরু হয় মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। পড়াশোনা আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় কেটে যায় তার দিন। নাদিয়ার মতো কেউ শারীরিক, কেউ বুদ্ধি, আবার কেউ শ্রবণপ্রতিবন্ধী। কিন্তু তাদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল মোরেলগঞ্জ উপজেলার একমাত্র প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পার হলেও এখনো নানা সংকটে জর্জরিত।
বাগেরহাট জেলার পানগুছি নদীর তীরবর্তী পৌর শহরে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো আধুনিক প্রতিবন্ধীবান্ধব একাডেমিক ভবন। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, টেবিল-চেয়ার, বেঞ্চ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
২০১২ সালে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে। ২০২০ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও সাধারণ বিদ্যালয়ের মতো নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত। বর্তমানে এখানে প্রস্তুতিমূলক, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও বৃত্তিমূলক বিশেষায়িত শাখা চালু রয়েছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা দুপুরের খাবার বা টিফিনের ব্যবস্থা। একটি একচালা জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের নিচে বসেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঠদান চলছে। বর্ষা মৌসুমে কক্ষে পানি ঢুকে যায়, আর গ্রীষ্মে টিনের তাপে ক্লাস নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
সহকারী শিক্ষক জানান, বর্ষায় পানি জমে এবং গরমে টিনের তাপের কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়। প্রধান শিক্ষক শাহনেওয়াজ সজীব বলেন, “একটি আধুনিক প্রতিবন্ধীবান্ধব ভবন, টিফিনের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ার ও বেঞ্চ অত্যন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিভাবকদের বিশ্বাস, মোরেলগঞ্জের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আধুনিক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তারা সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

