AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

দেবী যশোরেশ্বরীর মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্যের কাকা শ্রী বসন্ত রায়


Ekushey Sangbad
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল
১১:৫১ এএম, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দেবী যশোরেশ্বরীর মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্যের কাকা শ্রী বসন্ত রায়

দেবী যশোরেশ্বরীর মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্যের কাকা শ্রী বসন্ত রায়। দেবী যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠের নাম যশোরেশ্বরী। এই পীঠ বাংলাদেশের খুলনায় অবস্থিত। হাসনাবাদ রেল স্টেশন থেকে ২৫ মাইল দূরে ঈশ্বরীপুরে। পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে এখানে দেবী সতীর হস্তের পাণিপদ্ম পড়েছিল। পাণিপদ্ম কী? এটি দেহের কোনো অঙ্গ নয়, তবে দেহের সঙ্গে জড়িত। ‘পাণি’ শব্দের অর্থ হস্ত, পদ্ম একটি ফুল। অর্থাৎ দেবীর হাতের পদ্ম এখানে পতিত হয়েছিল। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেবী হস্তে পদ্ম ধারণ করেন। পদ্ম কোমলতা ও পূর্ণ বিকাশের প্রতীক।

এখন প্রশ্ন, দেবীর পদ্ম থেকে কীভাবে দেবী সৃষ্টি হলো? পদ্ম তো জলজ পুষ্প। উদাহরণ এই যে, দক্ষ প্রজাপতির তপস্যায় তুষ্ট হয়ে আদ্যাশক্তি মহামায়া দক্ষদুহিতা সতী রূপে জন্ম নিয়েছিলেন। দেবীর অঙ্গে নানা দেবীশক্তি বিদ্যমান ছিল। দেবী যা ধারণ করতেন, তাতেও দেবীর শক্তি সমভাবে বিদ্যমান ছিল। সুতরাং দেবীর সেই করের পদ্মটিও একজন দেবী। পীঠনির্ণয়তন্ত্র শাস্ত্রে লিখিত আছে—যশোরে পাণিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বরী চণ্ডশ্চ ভৈরবো যত্র তত্র সিদ্ধির্নসংশয়।

দেবীর নাম যশোরেশ্বরী, তাঁর ভৈরব হলেন চণ্ড। দেবীকে এখানে সর্বসিদ্ধিদায়িনী বলা হয়েছে। ‘যশ’ প্রদানকারিণী মহাশক্তি তিনি। যশ শব্দের অর্থ কীর্তি। সকাম উপাসকেরা দেবীর কাছে আয়ু, আরোগ্য, সৌন্দর্য, টাকা, ধন, দৌলত, সুন্দরী স্ত্রী— “রূপং দেহি যশ দেহি ভার্যাং দেহি” বলে প্রার্থনা করেন। দেবী এই সকল যশ প্রদান করেন। আবার নিস্কাম উপাসকেরা চৈতন্য, আত্মজ্ঞান, মাতৃকৃপা, মাতৃদর্শন ইত্যাদি যশ বা কীর্তি প্রার্থনা করেন; দেবী সেসবও প্রদান করেন। সেই জন্য দেবীর নাম যশোরেশ্বরী। আর এই পীঠকে সর্বসিদ্ধিদায়িনী বলে তন্ত্রে লিখিত হয়েছে। ঠিক এই কারণেই সর্বপ্রকার বিকাশ বা অভ্যুত্থানের প্রতীক পদ্মপুষ্প দেবীর হস্ত থেকে এখানে পতিত হয়েছে।

দয়াময়ী মায়ের কৃপা কত! স্বেচ্ছায় নিজ দেহ থেকে ৫১ পীঠ সৃষ্টি করে মানবকল্যাণের জন্য বিরাজিতা হলেন। ভক্তি, শক্তি ও মুক্তি মেলে দেবীর শক্তিপীঠে গিয়ে।

এই মন্দিরের প্রকাশ কীভাবে ঘটে? বাংলার বারো ভূঁইয়াদের রাজত্ব আমলের কথা। রাজা প্রতাপাদিত্যের এক বিশ্বস্ত অনুচর ছিলেন। তাঁর নাম কমলখোঁজা। তিনি ইচ্ছামতী নদীর তীরে একদা ভ্রমণকালে একটি জ্যোতি দেখতে পান। এরপর তিনি মহারাজাকে জানালে মহারাজ প্রতাপাদিত্য সেই বাদাবন পরিষ্কার করে দেবীর অঙ্গশিলা প্রাপ্তি করেন। ভিন্ন মতে, যশ পাটনী নামক এক মাঝি নদীবক্ষে জ্যোতি দর্শন করেন। তিনি এই অলৌকিক কাণ্ড রাজা প্রতাপাদিত্যকে জানালে রাজা সেই স্থানে ডুবুরি নামিয়ে দেবী সতীর অঙ্গশিলা উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর রাজা প্রতাপাদিত্যের যশ বৃদ্ধি পায়।

তিনি উৎকল আক্রমণ করে উৎকলেশ্বর শিব ও গোবিন্দ মূর্তি হরণ করে আনেন এবং নিজ রাজ্যে মন্দির স্থাপনা করে প্রতিষ্ঠা করেন। অপরদিকে মুঘল শাসনকালে আকবরের নেতৃত্বে জয়পুরের রাজা মানসিংহ প্রতাপাদিত্যের রাজ্যে আক্রমণ করে দেবী সতীর অঙ্গশিলা জয়পুরে নিয়ে যান। সেখানেই এখন পূজা হয়। একটি প্রবাদ আছে— “হিন্দুই হিন্দুর বড় শত্রু।” রাজা প্রতাপাদিত্য যেমন হিন্দু রাজ্য উৎকল আক্রমণ করে অযথা হিন্দুদের মধ্যে যুদ্ধ লাগালেন, তেমনি রাজা মানসিংহও হিন্দু রাজ্য আক্রমণ করে অযথা হিন্দুদের মধ্যে রক্তপাত ঘটালেন। মাঝখান থেকে “লাভের গুড়” খেল মুঘলেরা।

দেবী যশোরেশ্বরীর মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্যের কাকা শ্রী বসন্ত রায়। এই মন্দির অনেক পুরোনো— দেখলেই বোঝা যায়। রাজার আমলে এই মন্দির নাকি প্রচুর কারুকার্যে শোভিত ছিল। সেই সব চোখধাঁধানো কারুকার্য এখন আর নেই; সিমেন্টের আবরণের তলায় ঢাকা পড়ে গেছে। আশপাশে রাজার নির্মিত যাত্রীনিবাসগুলোও এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। স্থানীয় এক পুরোহিতের বাড়িতে মায়ের শির আছে। স্থানীয় পুরোহিতের কথায়, রাজা মানসিংহ নাকি নকল অঙ্গশিলা নিয়ে গিয়েছিলেন। যাই হোক, এসব বিতর্কিত বিষয়।

স্থানীয় একঘর অধিকারী ব্রাহ্মণ বংশপরম্পরা ধরে মন্দিরে পূজোর দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে নাকি এই মন্দিরে নরবলি হতো। তন্ত্র মতে দেবীর পূজা হয়। দেবী এখানে কালী রূপিণী। বর্তমানে ছাগাদি বলি হয়।

এই মন্দিরের সামনে একটি রাজার নির্মিত বাটি ছিল। একসময় দেবীর বিশাল সমারোহে পূজা হতো। সেই বাটিতে বহু পাণ্ডা ও পুরোহিত থাকতেন। সেটিও এখন নেই। যশোর থেকে যশোরেশ্বরী যেতে যশোরের দক্ষিণে সাতক্ষীরা যেতে হবে। সাতক্ষীরা থেকে কালীগঞ্জ ৩৩ কিলোমিটার। সেখান থেকে শ্যামনগর হয়ে ২ কিলোমিটার দূরে বংশীপুর বাজার। সেখান থেকে অল্প দূরেই এই মন্দির। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বাস আছে। ঢাকা থেকেও এই মন্দিরে যাওয়া যায়।

এই হলো মা যশোরেশ্বরীর কথা। আসুন, মায়ের চরণে প্রণাম জানিয়ে বলি— সহিতমহাহব মল্লমতল্লিক মল্লিতরল্লক মল্লরতে বিরচিত বল্লিক পল্লিক ঝিল্লিক ভিল্লিক বর্গবৃতে। সিতকৃতফুল্ল সমুল্লসিতারুণতল্লজ পল্লব সল্ললিতে জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী রম্যকপর্দিনী শৈলসুতে।

অর্থাৎ— হে মাতঃ! তুমি জুঁইফুলের লতার মতো কোমল হয়েও বহুবিধ মল্লযুদ্ধে বিশারদ যোদ্ধার শক্তিকেও হার মানিয়েছ। তবু মধুমক্ষিকাকুলে সমাকীর্ণ জুঁইফুলে সুসজ্জিতা পল্লিবালার মতো সদ্যজাত ও ঈষৎলাবণ্যের কচিকচি পত্রপল্লব দ্বারা বেষ্টিতা মহানন্দে পরিপূর্ণা তুমি অতি সুন্দর। তুমি শৈলসুতা জটাজুটধারিণী পার্বতী। তুমিই মহিষাসুর বধ করেছ।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!