কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত খামারিদের মাঝে উন্নত জাতের মোরগ-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বরে এই বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলের ৮৬টি এলাকার ১৯৯ জন সুবিধাভোগীর মাঝে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (আইএলডিপি) এর আওতায় এসব মোরগ-মুরগি বিতরণ করা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার সরকার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাহাবুর আলম, আইএলডিপি প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুর রহমান সুমন, এলএফএফ মুকুল মিয়া, এলএসপি মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, “মুরগি পালন গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সহজ ও লাভজনক আয়মুখী কার্যক্রম। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন ও গ্রহণের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং আর্থ-সামাজিক বৈষম্য হ্রাস সম্ভব। যে দেশের মানুষ বেশি ডিম খায়, সে দেশের মানুষ তত বেশি মেধাবী।” তিনি জানান, সরকারের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ, টিকাদান ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে খামারিদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাহাবুর আলম বলেন, “মুরগির বাচ্চা জন্মের ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিসিআরডিভি ভ্যাকসিন প্রদান করলে অধিকাংশ রোগ থেকে মুরগিকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। হাঁস-মুরগি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি নগদ আয়ের উৎস, যা একটি ‘লিভিং ব্যাংক’ হিসেবে কাজ করে।”
মোরগ-মুরগি প্রাপ্ত খামারিরা জানান, এ সহায়তা তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে এবং সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

