AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

গ্রামের চায়ের দোকানে ভোটারদের মনে শুধু প্রশ্ন আর নীরবতা


Ekushey Sangbad
আব্দুল্লাহ সউদ, কালাই, জয়পুরহাট
০৯:০৩ পিএম, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

গ্রামের চায়ের দোকানে ভোটারদের মনে শুধু প্রশ্ন আর নীরবতা

গ্রামীণ জনপদে আসন্ন গণভোটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নীরবতা ও অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাট-বাজার, চায়ের দোকান বা পরিচিত আড্ডায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও গণভোট বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের অধিকাংশ ভোটারই জানেন না গণভোট কী, কেন এটি আয়োজন করা হচ্ছে কিংবা এতে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও প্রভাব কী হতে পারে। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম না থাকায় গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া গ্রামবাংলার মানুষের কাছে এখনো স্পষ্টভাবে পৌঁছেনি।

গ্রামের সাধারণ মানুষের ভাষ্য অনুযায়ী,তাদের কাছে গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া পরিষ্কারভাবে এখনো পৌঁছায়নি।মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা,উঠান বৈঠক কিংবা সরাসরি ব্যাখ্যার অভাবে বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে। ফলে কেউ কেউ গণভোটকে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন, আবার অনেকে এটিকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার একটি পদ্ধতি বলে মনে করছেন।কোন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে? সেটিও বেশির ভাগ ভোটারের জানা নেই।অনেক গ্রামেই এখনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা কার্যত অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছেন।

কালাই উপজেলার পৌরসভা,আহম্মেদাবাদ,পুনট, মাত্রাই উদয়পুর ও জিন্দারপুর এলাকায় কথা হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে।উদয়পুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,নির্বাচন কী,ভোট কী, এইটা বুঝি। কিন্তু গণভোট আবার কী জিনিস, এইটা কেউ আমাদের বোঝায় নাই। তার মতো অনেকের কাছেই গণভোট একটি অপরিচিত শব্দ। ভ্যানচালক এনামুল হক বলেন,ভোট হইবো জানি, ভোট দিমু।কিন্তু গণভোট কোনটা,সেইটা তো বুঝি না। বলিগ্রাম এলাকার দিনমজুর সাবের মিয়া বলেন,গণভোট দিলে কী হইবো,এইটার মানে তো বুঝি না।কেউ যদি বোঝাইতো,তাহলে হয়ত বুঝতাম।একই এলাকার গৃহবধূ শশী বালা বলেন, গণভোট দিলে আমাদের কী লাভ বা ক্ষতি, এইটা কেউ কইছে না।তাই এইটা নিয়ে তেমন আগ্রহও নাই। শিকটা গ্রামের শ্রমিক সাকাম মিয়ার কণ্ঠেও রয়েছে বিভ্রান্তি।তিনি বলেন, হ্যাঁ’ দিলে কী হইবো আর ‘না’ দিলে কী হইবো এইটাই তো বুঝি না। শুধু হ্যাঁ-না শুনলেই তো সব পরিষ্কার হয় না।

রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ শেষে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং সেই সংস্কারের বৈধতা দিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও এর তাৎপর্য সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে সরকারি দপ্তর ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে জনগণের কাছে যেতে হবে।

গণভোট বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন জানান, আমরা মাঠপর্যায়ে প্রচার ও মতবিনিময় কার্যক্রম জোরদার করেছি, যাতে ভোটাররা গণভোটের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। এই প্রক্রিয়াটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে জনসচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পাঁচ ইউনিয়নে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য অফিসের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ-না ভোট’ সংক্রান্ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের আগেই সব ভোটারের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছে যাবে।

উপজেলার সচেতন মহলের মতে, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে প্রথম শর্ত হলো পরিষ্কার ও সহজ ভাষায় তথ্য পৌঁছে দেওয়া। গণভোট কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে অংশগ্রহণ করলে কী পরিবর্তন আসতে পারে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে। এখন সময়ই বলে দেবে, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা সেই নীরবতা ভাঙতে পারবে কিনা।


একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!