মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হয়েছে পর্যটনভিত্তিক ‘রাধানগর পর্যটন পিঠা উৎসব ২০২৬’। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় রাধানগর পর্যটক গ্রামের টুরিস্ট পুলিশ কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে উৎসবটির উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সংস্কৃতি, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও পর্যটনকে একসূত্রে মিলিয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন সাজানো হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। চায়ের পাতা ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা আলাদা আলাদা ডালায় ঢেকে রাখা হয়, যা অতিথিরা একযোগে উন্মোচন করেন। আয়োজকদের মতে, এই প্রতীকী উদ্বোধনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের চা, কৃষি ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পর্যটনের যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা সজল কুমার দাশ। রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কুমকুম হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান চৌধুরী, সাংবাদিক সালেহ আহমেদ কুটি, সাংবাদিক আজিজুর রহমান আজিজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উৎসব প্রাঙ্গণে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্টল বসানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারাও নিজেদের তৈরি পিঠা ও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় স্বাদের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি হয়েছে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ।
এ ছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণে ‘পর্যটনবান্ধব সাংবাদিকতা কর্নার’ নামে একটি বিশেষ স্টল রাখা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পর্যটকদের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত, আবাসনসহ বিভিন্ন পর্যটনসংক্রান্ত তথ্য জানাতে সহায়তা করছেন। এতে পর্যটকরা সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ায় উৎসবটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও কার্যকর হয়ে উঠেছে।
উৎসবের প্রথম দিনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এসব খেলাধুলার পুরস্কার বিতরণ করা হবে আগামীকাল। সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী নৃত্যানুষ্ঠান, যা দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। উৎসবস্থলে দিনভর বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে লোকগীতি আসর। প্রতিদিন রাত ৮টা পর্যন্ত উৎসবের আয়োজন চলবে।
আয়োজকদের মতে, শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় সংস্কৃতি ও পিঠাপুলির ঐতিহ্য তুলে ধরা, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পর্যটনখাতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা এবং শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য। পর্যটন ও পিঠার এই ব্যতিক্রমী মেলবন্ধন শ্রীমঙ্গলের উৎসব সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

