রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর, কমলাপুর, চর আষাড়িয়াদহ ও খাল বিল এলাকায় সরিষার বিস্তৃত ক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে সরিষার মাঠে মৌমাছির ভিড় জমে উঠেছে, যা দেখে ছোটবেলার ছড়ার “মৌমাছি মৌমাছি কোথাও যাও, নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই” স্মরণ করিয়ে দেয়।
মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত, দলে দলে উড়ে উড়ে মধু সঞ্চয় করছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বাক্সবন্দী মৌচাকে। কৃষি অধিদফতর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরিষার ক্ষেতে মৌমাছি থাকলে ফুলের পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে সরিষার ফলন ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের আতাউর রহমান ২০০০ সাল থেকে সরিষার ক্ষেতে মধু চাষ করছেন। শুরুতে ১০টি মৌ বাক্স দিয়ে মধু আহরণ শুরু করেন, পরবর্তী বছরগুলোতে বাক্সের সংখ্যা বাড়ান। প্রতিটি বাক্সে ৫০-৬০ হাজার মৌমাছি থাকে এবং একটি রাণী মৌমাছি প্রতিটি বাক্সের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দিনে ছয়বার মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা দেয়। এভাবে প্রতিটি বাক্স থেকে ৮-১০ দিনের ব্যবধানে দেড় কেজি পর্যন্ত সুস্বাদু মধু আহরণ করা হয়। মাঠে মধুর দাম ৪০০ টাকা কেজি।
সরিষার মৌমাছির পর সরিষার ফুল শেষ হলে মার্চে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌচাকগুলো নাটোর, ঠাঁকুরগাঁও, দিনাজপুর বা ঈশ্বরদীর মতো এলাকায় পাঠানো হবে। মৌ চাষীরা জানান, সরকারের সমর্থন থাকলে মধু আহরণের কাজ আরও প্রসারিত করা সম্ভব এবং দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, তিনটি লক্ষ্য নিয়ে সরিষার মৌমাছি পালন করা হচ্ছে—মধু আহরণ, সরিষার ফলন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কৃষকদের মৌমাছি চাষে উদ্বুদ্ধ করা। এ বছর উপজেলায় প্রায় ১,০০০টি মৌ বাক্সে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, মোট মধুর পরিমাণ হবে প্রায় ৯,০০০ কেজি।
মৌমাছি শুধুমাত্র মধু সংগ্রহ করে না, ফসলের জন্য ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ দূর করে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

